ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চলা আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনও ইতিবাচক ফল আনতে পারেনি। প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে বৈঠক চললেও দুই দেশের মধ্যে মতভেদ কমেনি, বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এই জলপথটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবহন এই পথ দিয়েই হয়।এমন অবস্থায় ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম-এ একটি বার্তা পোস্ট করেন। সেখানে তিনি জানান, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীতে কড়া নজরদারি চালাবে এবং প্রয়োজন হলে এই পথ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এই এলাকায় দিয়ে কোনও জাহাজ চলাচল করতে চাইলে অনুমতি নিতে হতে পারে।এই ঘোষণার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে। কারণ, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বহু দেশের মতো ভারতেও জ্বালানি আসে। ফলে এই পথে কোনও বাধা সৃষ্টি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে দেশের জ্বালানি সরবরাহে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের দাম আবার বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।তবে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, দেশের প্রয়োজনীয় এলপিজির একটি বড় অংশ এখন দেশেই উৎপাদিত হয়। ফলে সম্পূর্ণভাবে বিদেশের উপর নির্ভরশীলতা আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তবুও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব যে পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়, তা স্পষ্ট।এদিকে মাসের শুরুতেই বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়ায় সমস্যায় পড়েছেন ছোট ব্যবসায়ী ও রাস্তার খাবারের দোকান চালানো মানুষজন। অনেকেই খরচ সামলাতে না পেরে দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার কেউ কেউ খাবারের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন, যাতে লোকসান কিছুটা কমানো যায়। কিছু জায়গায় দেখা যাচ্ছে, খরচ কমাতে মেনু থেকেও কিছু আইটেম বাদ দেওয়া হচ্ছে।আজ, ১৩ এপ্রিলের হিসেবে দেশের বিভিন্ন বড় শহরে এলপিজির দামের পার্থক্যও নজরে পড়ছে। তথ্য বলছে, গার্হস্থ্য এলপিজির দাম সবচেয়ে বেশি রয়েছে কলকাতাতে (৯৩৯ টাকা)। অন্যদিকে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম সবচেয়ে বেশি চেন্নাইতে(২,০৪৩ টাকা)। তুলনায় সবচেয়ে কম দামে গার্হস্থ্য এবং বাণিজ্যিক দুই ধরনের গ্যাসই পাওয়া যাচ্ছে মুম্বাইতে। আন্তর্জাতিক টানাপোড়েনের প্রভাব যে দেশের সাধারণ মানুষের উপর পড়তে শুরু করেছে, তা স্পষ্ট।
Popular Categories


