রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করল বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনা। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে দুষ্কৃতীদের গুলিতে গুরুতর জখম হন তিনি। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। এর আগেও ২০১৩ সালের শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক প্রদীপ কা, ২০১৮ প্রাক্তন দেহরক্ষী সুব্রত চক্রবর্তী এবং ২০২১ সে আপ্তসহায়ক পুলক লাহিড়ী খুন হয়েছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতে গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। তাঁর সঙ্গে গাড়িতে ছিলেন চালকও। দোহারিয়া এলাকার কাছে পৌঁছতেই কয়েকজন দুষ্কৃতী মোটরবাইকে এসে তাঁদের গাড়ির পথ আটকে দেয় বলে অভিযোগ। এরপর খুব কাছ থেকে একের পর এক গুলি চালানো হয়। গুলিতে গুরুতর আহত হন চন্দ্রনাথ রথ। চালকও জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা গুলির শব্দ শুনে ছুটে আসেন। দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শরীরের একাধিক অংশে গুলি লাগে। বিশেষ করে বুক ও পেটে গুলি লাগার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
চন্দ্রনাথ রথ দীর্ঘদিন ধরে শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নির্বাচনী প্রচার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কৌশল তৈরির ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে। ভোটে শুভেন্দুর বড় জয়ের পিছনেও তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল বলে দলের নেতাদের একাংশের মত।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্তে নেমেছে পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ। আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত এবং কী কারণে এই খুন, তা জানার চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, চন্দ্রনাথ রথই হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ছিলেন। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিজেপি নেতৃত্ব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছে।


