ছত্তিশগড়ের রায়গড় জেলার তামনার ব্লকে একটি কয়লা খনি প্রকল্পকে ঘিরে টানা দু’সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ শনিবার ভয়াবহ রূপ নেয়। ১৪টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এই প্রকল্পের বিরোধিতায় পথে নেমেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যে কৃষিজমির উপর নির্ভর করে তারা জীবিকা চালাচ্ছেন, সেই জমি কোনও অবস্থাতেই ছেড়ে দিতে চান না।
শনিবার পরিস্থিতি হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে জানা যায়, এমনকি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষও হয়। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় একাধিক গাড়িতে। এই ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, দুই জন ঊর্ধ্বতন আধিকারিক গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনকে বেগ পেতে হয়। ঘটনার পরদিনই জেলা প্রশাসন আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি মেনে নেয়। ৮ ডিসেম্বর এই প্রকল্প নিয়ে হওয়া জনশুনানির ফল বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, ওই জনশুনানি সঠিক ভাবে হয়নি এবং সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। যদিও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, নিয়ম মেনেই জনশুনানি হয়েছিল এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবুও পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রশাসন শুনানির ফল বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
শনিবারের এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সাই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রবিবার জেলা শাসক ময়াঙ্ক চতুর্বেদী আন্দোলনরত গ্রামবাসীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে মহকুমা শাসক দুর্গা প্রসাদ অধিকারী জানান, প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে এবং জনশুনানির ফল বাতিলের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি গ্রামবাসীদের শান্ত থাকার আবেদনও জানান।
বিক্ষোভকারীরা বলছেন, এটি তাদের পৈতৃক জমি। ঝিঙ্কাবাহাল গ্রামের বাসিন্দা কমলা প্যাটেল বলেন, সামান্য জমিতে চাষ করেই তাদের সংসার চলে।
অন্যদিকে, প্রকল্প পাওয়া জিন্দাল গোষ্ঠীর দাবি, সরকার নিয়ম মেনেই সব কাজ করেছে। তাদের তরফে ক্ষতিপূরণ, চাকরি এবং বিকল্প বাসস্থানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে গ্রামবাসীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, টাকা বা চাকরির বদলে তারা নিজেদের জমি দিতে রাজি নন।


