মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে চীন। খবর অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে আমেরিকার বাধার কারণে চীনের একটি জাহাজকে মাঝপথ থেকেই ফিরে যেতে হয়। এই ঘটনার পর বেইজিং সরাসরি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছে।
চীনের বক্তব্য, তাদের স্বার্থের ক্ষেত্রে বাইরের কোনও দেশের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডং জুন জানিয়েছেন, তারা ওই অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে চায়। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে শক্তি ও বাণিজ্য সম্পর্ক তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই সম্পর্কের ওপর কোনও চাপ তারা মেনে নেবে না।
চীনের মতে, হরমুজ প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং এই পথ ব্যবহার করার অধিকার সকলের থাকা উচিত। শুধু চীন নয়, আরও কয়েকটি দেশ এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রোব্লেস আমেরিকার এই পদক্ষেপকে অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এর ফলে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা বাড়তে পারে। অস্ট্রেলিয়া ও ব্রিটেনও একই মত জানিয়ে বলেছে, এই সমুদ্রপথ সবার জন্য খোলা থাকা উচিত।
চীনের জন্য এই রুট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাদের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে আসে। ফলে এই বাধার কারণে তাদের বাণিজ্যে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে তারা ইরানের উপর চাপ বাড়ানোর জন্যই এই ব্যবস্থা নিয়েছে। তাদের হুঁশিয়ারি, আন্তর্জাতিক জলসীমায় কোনও জাহাজ যদি ইরানকে অর্থ দেয়, তবে সেটিকে আটক করা হবে। প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। এর পাল্টা জবাবে ইরানও সতর্ক করেছে, তাদের বন্দর এলাকায় হামলা হলে আশপাশের কোনও অঞ্চলই নিরাপদ থাকবে না। ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।


