Tuesday, October 20, 2026
28 C
Kolkata

তৃণমূলের ভরাডুবির পর বড় চাল কংগ্রেসের, শহিদ মিনারে ২১ জুলাই পালনের ডাক

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেস এখন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ঘরবন্দি’ এবং দলের তথাকথিত ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও কোনও পাত্তা নেই। এই পরিস্থিতিতে প্রতিবারের মতো এবার ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস কর্মসূচি তৃণমূল কীভাবে পালন করবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। ঠিক এই সুযোগেই মাঠ ফাঁকা দেখে রাজনীতিতে ফায়দা লুটতে নেমে পড়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। শনিবার পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ঘোষণা করেছেন, এবার ২১ জুলাই তাঁরা ধর্মতলার শহিদ মিনার চত্বরে পালন করবেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল এবং কংগ্রেসের এই কাজ আসলে একই ঘটনার ওপর ভাগ বসানোর নোংরা লড়াই। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন বাম সরকারের পুলিশের গুলিতে যে ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মী মারা গিয়েছিলেন, সেই ঘটনাকে হাতিয়ার করেই এতদিন রাজনীতি চলেছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, দল ভেঙে তৃণমূল তৈরি করার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনটিকে কংগ্রেসের হাত থেকে কার্যত ‘হাইজ্যাক’ করে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে শুরু করেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের ভয়ে এতদিন কংগ্রেসের বাঘা বাঘা নেতারা কলকাতার মৌলালির দলীয় কার্যালয় বিধান ভবনের ভেতরেই মুখ লুকিয়ে এই দিনটি পালন করতেন। এখন তৃণমূলের শোচনীয় হারের পর সুযোগ বুঝে কংগ্রেস আবার নিজেদের ক্ষমতা দেখাতে রাস্তায় নামার চেষ্টা করছে।

এই শহিদ দিবসকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দ্বিচারিতা ও ক্ষমতার লোভ আগেই মানুষের সামনে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ১৯৯৩ সালের সেই ঘটনার সময় যে পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নির্দেশে গুলি চলেছিল, তাঁদের মধ্যেই অন্যতম মণীশ গুপ্তকে পরবর্তীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের দলে টানেন। শুধু তাই নয়, ২০১১ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে হারানোর পুরস্কার হিসেবে মণীশ গুপ্তকে মন্ত্রী এবং বিধায়কও বানায় তৃণমূল। যার নির্দেশে দলীয় কর্মীরা খুন হলেন, ক্ষমতা পাওয়ার লোভেই তাকেই দলে জায়গা দেওয়া— তৃণমূলের এই নীতিহীন রাজনীতির বড় প্রমাণ।

গত ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই হারের আতঙ্কে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা কার্যত গা ঢাকা দিয়েছেন। দল কোন পথে চলবে, তা নিয়ে নিজেদের মধ্যেই চরম ডামাডোল চলছে। এই অবস্থায় তৃণমূল আদৌ ২১ জুলাই পালন করার সাহস পাবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। আর সেই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কংগ্রেস এখন নিজেদের প্রাসঙ্গিক করে তোলার জন্য অক্সিজেন খুঁজছে। দুই দলের এই কাড়াকাড়ি আসলে মৃত কর্মীদের আবেগকে ব্যবহার করে সস্তার রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই নয়।

Hot this week

থিমের দাপট বন্ধ হোক, হইহুল্লোড় নয়’, আগামী বছর থেকে সাত্ত্বিক পুজোর ডাক কৌস্তভ বাগচীর!

চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপে ভয়াবহ পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার পর পুজোর...

খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজা, বিজেপির টিকিটে ভোটে লড়ার সুযোগ দিতে সাজা স্থগিত করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট

খুনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত এক ব্যক্তিকে নির্বাচনে অংশ...

চোরবাগানে ১৯ জনের মৃত্যুর পর প্রশ্নের মুখে পুলিশি নিরাপত্তা, দায়িত্বে ছিলেন দুই ডিসি!

দুর্গাপুজোর ভিড় সামলাতে কলকাতা পুলিশের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বরাবরই প্রশংসা...

‘নীতীশকে সাহায্য করতে ৯ জনকে খুন!’ বিস্ফোরক দাবি অনন্ত সিংয়ের, বিতর্কের মুখে সুর বদল বিধায়কের

বিহারে বিধান পরিষদের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই নতুন...

Topics

থিমের দাপট বন্ধ হোক, হইহুল্লোড় নয়’, আগামী বছর থেকে সাত্ত্বিক পুজোর ডাক কৌস্তভ বাগচীর!

চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপে ভয়াবহ পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার পর পুজোর...

খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজা, বিজেপির টিকিটে ভোটে লড়ার সুযোগ দিতে সাজা স্থগিত করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট

খুনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত এক ব্যক্তিকে নির্বাচনে অংশ...

চোরবাগানে ১৯ জনের মৃত্যুর পর প্রশ্নের মুখে পুলিশি নিরাপত্তা, দায়িত্বে ছিলেন দুই ডিসি!

দুর্গাপুজোর ভিড় সামলাতে কলকাতা পুলিশের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বরাবরই প্রশংসা...

‘নীতীশকে সাহায্য করতে ৯ জনকে খুন!’ বিস্ফোরক দাবি অনন্ত সিংয়ের, বিতর্কের মুখে সুর বদল বিধায়কের

বিহারে বিধান পরিষদের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই নতুন...

চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু, পুজো কমিটির দখল নিয়ে বিতর্ক! নিশানায় বিজেপি নেতৃত্ব

উৎসবের আবহে বিষাদের ছায়া। চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোয় পদপিষ্ট হয়ে...

Related Articles

Popular Categories