দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের পৃথক দুটি হামলায় ছয়জন প্যারামেডিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় এই হামলাগুলোকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের “সুস্পষ্ট লঙ্ঘন” বলে অভিহিত করেছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হানাওয়ে শহরে চালানো এক হামলায় ‘ইসলামিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন’-এর চারজন প্যারামেডিক নিহত হন। এরপর শুক্রবার সকালে দাইর কানুন আন-নাহর এলাকায় আরেকটি হামলায় ‘আল-রিসালা স্কাউটস অ্যাসোসিয়েশন’-এর দুজন স্বাস্থ্যকর্মী প্রাণ হারান।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হানাওয়েতে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ও সেখানে অবস্থানরত জঙ্গিদের লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছিল। এছাড়া দাইর কানুন আন-নাহর এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা হিজবুল্লাহর দুই সদস্যকে শনাক্ত করে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে তারা। সেনাবাহিনীর দাবি, বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং হামলার আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাইর কানুন আন-নাহর এলাকা থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, হলুদ জ্যাকেট পরিহিত দুই স্বাস্থ্যকর্মী রাস্তার পাশে আহত এক ব্যক্তিকে সেবা দিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় ঘটনাস্থলের কাছে একটি অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছালে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে এবং দুই স্বাস্থ্যকর্মী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মন্ত্রণালয়ের দাবি, ওই হামলায় মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুই স্বাস্থ্যকর্মী এবং এক সিরীয় শিশুও রয়েছে।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে একই এলাকায় আরেকটি ভয়াবহ বিমান হামলায় ১৪ জন নিহত হয়েছিলেন। গত মাসে ঘোষিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর এটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী একক হামলা।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর দেশটিতে ৩,১০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১২৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী, ২১০ জনের বেশি শিশু এবং প্রায় ৩০০ জন নারী। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননের একাধিক হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, যুদ্ধকালীন সময়ে চিকিৎসাকর্মী ও স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোকে বিশেষ সুরক্ষা দেওয়ার কথা। তবে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের মধ্যে সাম্প্রতিক হামলাগুলো জরুরি সেবাকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।


