ইরান-আমেরিকা সমঝোতা প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের সক্রিয় ভূমিকা ঘিরে কেন্দ্রের বিদেশনীতি নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানাল কংগ্রেস। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে চলা আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে সরাসরি নিশানা করেছেন কংগ্রেসের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ।
কংগ্রেসের অভিযোগ, ভারতকে কার্যত পাশে সরিয়ে রেখে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারছে—যা দেশের বিদেশনীতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। কংগ্রেসের দাবি, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে মোদীর আলিঙ্গনের ছবি তুলে ধরে বিজেপি যে কূটনৈতিক সাফল্যের প্রচার করেছিল, বাস্তবে তা ফলপ্রসূ হয়নি। বরং আমেরিকাকেন্দ্রিক নীতির কারণে ঐতিহ্যগত বন্ধু দেশগুলির সঙ্গে ভারতের দূরত্ব বেড়েছে বলে অভিযোগ।
বর্তমানে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ ইরান-আমেরিকা সমঝোতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। ইরানের পক্ষ থেকে উপস্থিত রয়েছেন সংসদের অধ্যক্ষ মহম্মদ গালিবাফ ও বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
এই পরিস্থিতিতে জয়রাম রমেশ প্রশ্ন তুলেছেন, পহেলগামের সন্ত্রাসবাদী হামলায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চাপ তৈরি করতে ভারত কেন ব্যর্থ হল। তাঁর দাবি, ২০০৮ সালের মুম্বাই সন্ত্রাসবাদী হামলার পর যেমন পাকিস্তানকে কূটনৈতিকভাবে একঘরে করা হয়েছিল, এবার সেই উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
রমেশ আরও বলেন, আমেরিকায় গিয়ে ‘নমস্তে ট্রাম্প’ বা ‘হাউডি মোদী’-র মতো রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পর্ক জোরদার করা হলেও, বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে গুরুত্ব দিল কেন—তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ সরকারের ভূমিকাও সমালোচনার মুখে পড়েছে। কংগ্রেসের দাবি, ইসলামাবাদ কার্যত আমেরিকার কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
রমেশ আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে ভারত ‘ব্রিকস’ গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব করছে এবং ইরান ও সৌদি আরবও ওই জোটের সদস্য। সেই পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভারতের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত ছিল বলেই তাঁর মত।


