মহারাষ্ট্রে বিধান পরিষদের নির্বাচনে মাত্র একটি আসনে জিতেছে কংগ্রেস। কিন্তু সেই একটি জয়কেই বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে দল। কারণ, নাগপুরের স্নাতক কেন্দ্র থেকে এই জয় এসেছে, যেখানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সদর দফতর অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকা বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ফলে এখানে কংগ্রেসের জয় রাজনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।নাগপুরের স্নাতক কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস প্রার্থী অভিজিৎ ওয়ানজারি বিজেপির সুধাকর কোহালেকে ৩,৭২১ ভোটে হারিয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ভোট গণনা শেষ হতে বুধবার গভীর রাত হয়ে যায়। প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে ব্যালট পেপার গোনার পর চূড়ান্ত ফল সামনে আসে। গণনার প্রথম দিকে এগিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী। কিন্তু পরের দিকে ব্যবধান কমিয়ে শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নেন ওয়ানজারি।এই ফল বিজেপির কাছে বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, নাগপুর শুধু আরএসএসের সদর দফতরের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়কড়িরও নিজের এলাকা এটি। নির্বাচনের আগে বিজেপি প্রার্থী কোহালের সমর্থনে প্রচার করেছিলেন দু’জনেই। তবুও এই আসনে জয় ধরে রাখতে পারেনি শাসক জোট।একসময় এই কেন্দ্র থেকেই বিধান পরিষদে নির্বাচিত হয়েছিলেন নিতিন গড়কড়ি। ১৯৯৯ সালের জুলাই থেকে ২০১৪ সালের মে পর্যন্ত টানা এই কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তিনি। সেই কারণে নাগপুরের স্নাতক কেন্দ্রকে বিজেপির দীর্ঘদিনের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে দেখা হয়।ভোট গণনা চলাকালীন দেবেন্দ্র ফড়নবীশ সমাজমাধ্যমে কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে লিখেছিলেন, এই নির্বাচনে কংগ্রেসের ঝুলিতে বড় শূন্য এসেছে। কিন্তু চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। এরপর নিজের পোস্টটি মুছে দেন তিনি। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিজেপিকে আক্রমণ করে মহারাষ্ট্র কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, ফল প্রকাশের আগেই কংগ্রেসকে নিয়ে বিদ্রুপ করতে গিয়ে পরে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে।রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি হর্ষবর্ধন সপকালও এই জয় নিয়ে বিজেপিকে নিশানা করেছেন। তাঁর দাবি, আরএসএসের সদর দফতরের এলাকায় বিজেপির পরাজয় দলের জন্য বড় ধাক্কা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কংগ্রেসের নির্বাচনী ফল নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন বলেও পাল্টা জবাব দেন তিনি।এই নির্বাচনে মহারাষ্ট্রের বিরোধী জোট মহা বিকাশ আঘাড়ি পাঁচটি আসনের মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছে। তার মধ্যে নাগপুরের আসনটি কংগ্রেসের দখলে এসেছে। পুনে ও ছত্রপতি সম্ভাজীনগরের স্নাতক কেন্দ্র থেকে জয় পেয়েছে শরদ পওয়ারের দল এনসিপি (এসপি)। অন্যদিকে, বিজেপির নেতৃত্বাধীন মহাযুতি জোট জিতেছে দুটি আসনে।৭৮ আসনের মহারাষ্ট্র বিধান পরিষদে বিজেপির সদস্য সংখ্যা ৩৫। শিবসেনার ১২ এবং এনসিপির ১০ জন সদস্য রয়েছেন। বিরোধীদের মধ্যে কংগ্রেস ও শিবসেনা (ইউবিটি)-র পাঁচজন করে সদস্য রয়েছেন। এনসিপি (এসপি)-র সদস্য সংখ্যা দু’জন। এ ছাড়াও চারজন নির্দল সদস্য রয়েছেন।একটি আসনে জয় পেলেও নাগপুরের ফলকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয়েছে মহারাষ্ট্রে। বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে এই হার আগামী দিনের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
Popular Categories


