একসময় দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সেই ছবিতে বড় পরিবর্তন দেখা গেল। বিজেপি জয় পেলেও দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসে নতুন করে আলোচনায় সিপিএম। এই ফলকে ঘিরে বাম শিবিরে ফের আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে “হাল ফেরাও, লাল ফেরাও” স্লোগান তুলে মাঠে নেমেছিল সিপিএম। তখন কংগ্রেস ও আইএসএফকে সঙ্গে নিয়ে সংযুক্ত মোর্চা গড়ে লড়াই হয়েছিল। কিন্তু সেই ভোটে সিপিএম একটি আসনও জিততে পারেনি। শুধু আইএসএফ একটি কেন্দ্র দখল করেছিল। এবার পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। ডোমকল কেন্দ্র থেকে মুস্তাফিজুর রহমান রানা জিতে বিধানসভায় পৌঁছেছেন। আর ফলতায় সিপিএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মিও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন।
ফলতায় তিনি পেয়েছেন ৪০ হাজারেরও বেশি ভোট। এই ফলের পর শম্ভুনাথ কুর্মি জানিয়েছেন, মানুষ এবার ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছেন বলেই এমন ফল সম্ভব হয়েছে। তাঁর দাবি, এতদিন সাধারণ মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারতেন না। তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও দুষ্কৃতীদের ব্যবহার করার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
সিপিএম প্রার্থীর বক্তব্য, আগে পুলিশ ও শাসকদলের ঘনিষ্ঠ কিছু লোকের প্রভাবেই ভোট হত। এবার সেই পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। তিনি বলেন, মানুষ এখন নিজের মত প্রকাশ করার সুযোগ পেয়েছেন। সেই কারণেই ফলতায় বামেদের ভোট বেড়েছে।
শম্ভুনাথ আরও জানান, এই ফল শুধু ভোটের হিসাব নয়, মানুষের দায়িত্বও। তিনি বলেন, এলাকার সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের দাবি-দাওয়া নিয়ে আগামী দিনে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ফলতায় যাতে আবার সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর রাখবে বামেরা।
এই কেন্দ্রে এর আগেও সিপিএম ভালো ফল করেছিল। ২০১৬ সালের নির্বাচনে দলের প্রার্থী বিধান পাড়ুই দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন এবং উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন। পরে অবশ্য তৃণমূলের প্রভাব অনেকটাই বেড়ে যায়। তবে এবার সেই সমীকরণ বদলে গিয়েছে। ফলতা কেন্দ্র দখল করেছে বিজেপি। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা এক লক্ষের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
তবুও দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসাকে বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছে সিপিএম। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে মানুষ যে বামেদের উপর আস্থা রাখছেন, এই ফল তারই প্রমাণ। তিনি দাবি করেন, প্রচারের জন্য আরও সময় পেলে ফল আরও ভালো হতে পারত।
সেলিমের কথায়, এই ফল বামপন্থীদের নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আগামী দিনে মানুষের আরও কাছে পৌঁছে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়েই এগোবে সিপিএম।


