বারাসত ব্লক–২ এর বিডিও অফিসের সামনে মঙ্গলবার এক প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সংখ্যালঘু ও গরিব মানুষের হয়রানির অভিযোগ তুলে সিপিএম ওইদিন বিডিও অফিসে ডেপুটেশন দিতে যায়। কিন্তু অভিযোগ, সেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির উপর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা বেপরোয়া হামলা চালায়। সিপিএম-এর অভিযোগ, তৃণমূল পরিচালিত বারাসত–২ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ আসের আলি মল্লিক এবং তৃণমূলের ব্লক সভাপতি মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে লাঠি ও কোদালের বাট নিয়ে সিপিএম কর্মীদের উপর চড়াও হয় তৃণমূল কর্মীরা। এই হামলায় সিপিএম উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আহমেদ আলি খান সহ প্রায় ১০ জন নেতা-কর্মী গুরুতরভাবে আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজন মহিলা কর্মীও রয়েছেন। ঘটনায় আহত হন প্রবীণ সিপিএম নেতা মহাদেব ঘোষ, তাঁর হাত ভেঙে যায়। এছাড়া আহমেদ আলি খানের ছেলে নিজামুদ্দিন খানের মাথা ফেটে যায়। আহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন শুভঙ্কর নিযোগী, বিশ্বনাথ পাত্র, প্রতীক দাস, চন্দনা দে, মধুমিতা দত্ত মজুমদার ও ডলি মুখার্জি।
এই ঘটনার সময় বিডিও অফিসের সামনে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা প্রথমে নীরব দর্শকের ভূমিকা নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে পুলিশের কিছুটা তৎপরতা দেখা যায়, তবে অভিযোগ অনুযায়ী হামলাকারীদের কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি। আহমেদ আলি খান বারাসত হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তিনি জানান, তাঁর উপর খুনের উদ্দেশ্য নিয়েই আক্রমণ চালানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, দলের কর্মীরা পাশে না থাকলে হয়তো তিনি প্রাণে বাঁচতেন না। ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বারাসতে সিপিএম-এর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। জেলা পার্টি অফিস থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি শহর পরিক্রমা করে চাঁপাডালির মোড়ে শেষ হয়। সেখানে কিছু সময় যশোর রোড ও টাকি রোড অবরোধ করা হয়। মধ্যমগ্রামেও পৃথক মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। জেলা সম্পাদক পলাশ দাশ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের উপর এই হামলা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার না করা হলে জেলা জুড়ে আন্দোলন আরও তীব্র হবে বলে তিনি জানান। এই ঘটনায় থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।


