ধর্ম নিয়ে যত কথাই হোক, শেষ পর্যন্ত মানুষই মানুষের পাশে দাঁড়ায়—উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরের পানশিলা গ্রামে শনিবার সেই ছবিটাই দেখা গেল। রমজান মাস চলছে। তবু রোজা রেখেই হিন্দু প্রতিবেশীর শেষযাত্রায় কাঁধ দিলেন প্রায় ২৫ জন মুসলিম যুবক ও প্রবীণ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কোটরা গ্রাম পঞ্চায়েতের পানশিলার বাসিন্দা বাসুদেব নন্দী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। সংসারে মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রী এবং একটি অল্পবয়সি মেয়ে—এই ছিল তাঁর ভরসা। শনিবার সকালে হঠাৎই তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের পক্ষে দাহকার্যের মতো দায়িত্ব সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।
খবর ছড়াতেই প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। হিন্দু পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি মুসলিমরাও এগিয়ে আসেন সমানভাবে। কেউ বাঁশ-দড়ির ব্যবস্থা করেছেন, কেউ শ্মশানযাত্রার প্রস্তুতি নিয়েছেন। রোজা থাকা সত্ত্বেও প্রায় ২৫ জন মুসলিম প্রতিবেশী মৃতদেহ কাঁধে তুলে নেন। শেষযাত্রায় মোটামুটি ৫০ জন গ্রামবাসী ছিলেন—হিন্দু ও মুসলিম, প্রায় সমান সংখ্যায়।
কোটরা সর্বমঙ্গলা মঙ্গলময়ী সতী মাতা নকশা তারা মায়ের মন্দির সংলগ্ন শ্মশানে সম্পন্ন হয় দাহকার্য। উপস্থিত এক প্রবীণ গ্রামবাসীর কথায়, “আমরা এখানে আগে প্রতিবেশী, তারপর অন্য কিছু। দুঃখের সময়ে পাশে দাঁড়ানোই বড় কথা।”
রমজানের সংযম আর সহমর্মিতার বার্তা যেন সেদিন গ্রামবাসীদের আচরণেই ফুটে উঠেছিল। বিভেদের সময়ে পানশিলার এই ছোট্ট ঘটনা আবার মনে করিয়ে দিল—মানবতার কোনও ধর্ম নেই, কিন্তু ধর্মের আসল শক্তি লুকিয়ে আছে মানবতার মধ্যেই।


