দিল্লিতে ১০ নভেম্বরের বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হওয়ার ঘটনার পর নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফরিদাবাদ থেকে এক মুসলিম মহিলা চিকিৎসক ডা. শাহিন শাহিদকে গ্রেফতার করেছে অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস) এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। সূত্রের খবর, উত্তরপ্রদেশ এটিএস এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের যৌথ দল শুক্রবার রাতে ফরিদাবাদের শাহিনের বাড়িতে অভিযান চালায়। টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে তল্লাশি। পুলিশ ওই বাড়ি থেকে একাধিক মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, পেন ড্রাইভ ও নথি বাজেয়াপ্ত করেছে। সমস্ত উদ্ধার সামগ্রী পাঠানো হয়েছে ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা করার জন্য।
গ্রেফতারের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শাহিনের বাবা শাহিদ আনসারি বলেন, “আমার মেয়ে সম্পূর্ণ নির্দোষ। ওকে ফাঁসানো হচ্ছে। ও একজন চিকিৎসক, অপরাধী নয়।” তিনি আরও জানান, তার মেয়ে সবসময় রোগীদের সেবা করে এসেছে, রাজনীতি বা কোনও সংগঠনের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারাও ডা. শাহিনের পক্ষে কথা বলেছেন। তাদের দাবি, “এই পরিবার বহু বছর ধরে এখানে বসবাস করছে। ডা. শাহিন কোভিডের সময়ও রোগীদের চিকিৎসা করেছেন। আমরা ওদের বিরুদ্ধে কোনো সন্দেহজনক কাজ দেখিনি।”ডা. শাহিনের বাবা শেষ পর্যন্ত জানান, “যদি আমার মেয়ে অপরাধী হয়, আদালত ঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু যদি ও নির্দোষ প্রমাণিত হয়, তাহলে যারা ওকে ফাঁসিয়েছে তাদেরও জবাব দিতে হবে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শাহিনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ফোন রেকর্ড ও ইমেইল খতিয়ে দেখা হচ্ছে কোনো চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ আছে কিনা তা জানতে। তবে এখনও পর্যন্ত তদন্ত সংস্থা কোনো প্রমাণ পপায়নি। শাহিনের দুই ভাই, পারভেজ ও শোয়াইবের বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। পরিবারের দাবি, তারা মুসলিম বলেই বারবার সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে তাদের। লখনউ ও দিল্লির মুসলিম সমাজের নেতারা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, যেন তদন্তটি নিরপেক্ষভাবে হয় এবং নির্দোষদের শাস্তি না হয়। ।


