দিল্লির দক্ষিণ-পশ্চিমে দ্বারকার পোচানপুর এলাকায় গত ২৫ জুন ভোরবেলা কর্তৃপক্ষের বুলডোজার চালিয়ে উচ্ছেদ করা হয়েছে একটি বস্তি কলোনি। এখানে বাস করতেন মূলত ৫০০-রও বেশি পরিযায়ী বাঙালি শ্রমিক। জুনের ১০ তারিখেই উচ্ছেদের নোটিস পেয়েছিলেন তারা, কিন্তু স্থানীয় এক ‘মালিক’ বা ঠিকাদার তাদের ভুলিয়ে বলেছিলেন, “চিন্তা করো না, ব্যাপারটা ম্যানেজ করে ফেলেছি!”
কিন্তু সেই মিথ্যা আশ্বাস ধুলোয় মিশে যায় যখন বুলডোজার গুঁড়িয়ে দেয় তাদের মাথাগোঁজার আশ্রয়, তাদের ঘরবাড়ি। ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে এক মহিলা চোখের জল আটকালেন না। তাঁর সন্তানরা তখনও আশেপাশে ছড়িয়ে থাকা লোহার টুকরো কুড়িয়ে বেড়াচ্ছে—বেঁচে থাকার তাগিদে। “মালিক বলেছিল উচ্ছেদ হবে না, কিন্তু এসডিএম সাহেব বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সব গুঁড়িয়ে দিল,” তিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন।
আরেক শ্রমিকের গল্প আরও করুণ। বাড়ি ভাঙার পর বিকেলে তিনি কাজের টাকা জোগাড়ে বেরিয়েছিলেন। ফেরার পথে ফুটপাথে ঘুমিয়ে পড়তেই চুরি হয়ে গেল তাঁর সঞ্চয় করা ৫,০০০ টাকা আর মোবাইল। “দু’বেলা খাবার জোগাড়ই দায়, তার ওপর পরনের কাপড়, মাথার উপর ছাদ তো স্বপ্নের মতো! উন্নয়নের নামে গরিবের ঘর ভাঙাই কি উন্নতি?”—প্রশ্ন তাঁর কণ্ঠে ।
পোচানপুর সরকারিভাবে অননুমোদিত কলোনি হলেও এখানকার বাসিন্দারা প্রায়শই উচ্ছেদের শিকার হন। স্থানীয় দোকানদারদের মতে, এই প্রথম নয়—কিন্তু কাগজে-কলমে তার প্রমাণ মেলেনি । মজার বিষয়, এই জমিতে বাড়ি তুলে গরিব শ্রমিকদের কাছ থেকে মাসে ৩,৫০০-৪,০০০ টাকা ভাড়া নিত এক ‘মালিক পরিবার’। বছরের পর বছর ধরে সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা, বিদ্যুৎ-জলের সংযোগ—সবই চলেছে কর্তৃপক্ষের চোখকে ফাঁকি দিয়ে!
উচ্ছেদের পর আশেপাশের এলাকায় ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় পুনর্বাসনও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে অনেকের জন্য। ধ্বংসাবশেষ থেকে এখনও লোহার টুকরো, ব্যবহারযোগ্য জিনিস খুঁজে বের করছেন শিশু ও বড়রা—যা বিক্রি হয়তো পাওয়া যাবে একবেলার ভাত । ৫ জুলাই গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে কলোনির বাকি অংশটুকুও। আর তখন হয়তো চিরতরে মুছে যাবে একটু মাথা গোঁজার স্বপ্ন দেখা এসব মানুষের শেষ আশ্রয় ।


