নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানের কাছে অবস্থিত প্রাচীন সৈয়দ ফয়েজ-ই-লাহি মসজিদকে ঘিরে সম্প্রতি উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দিল্লির প্রাচীনতম মসজিদগুলির মধ্যে অন্যতম এই মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় দখল উচ্ছেদের নামে ভাঙচুর অভিযান চালানো হলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তুর্কমান গেট এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলি জানান, ঘটনার দিন গভীর রাতে হঠাৎ করেই এলাকায় পুলিশ ও দিল্লি পুরনিগমের কর্মীরা উপস্থিত হতে শুরু করেন। এলাকাবাসীদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ১টা–১.৩০টার দিকে পুলিশ ও পুরনিগমের লোকজন আসে। এরপরই বুলডোজার দিয়ে একটি বারাত ঘর ও একটি ডিসপেনসারি ভাঙা শুরু হয়। মসজিদটি একশো বছরেরও বেশি পুরোনো এবং এই ধরনের অভিযানে মানুষের মনে ভয় ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ভাঙচুর শুরু হতেই এলাকার মানুষ মসজিদের বাইরে জড়ো হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেয়। পুলিশের তরফে অন্য বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (সেন্ট্রাল রেঞ্জ) মধুর ভার্মা জানান, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই দখল উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।ঘটনাস্থলে সংবাদমাধ্যম পৌঁছনোর সময়ও বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুর চলছিল এবং ভেঙে পড়া কাঠামোর ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করা হচ্ছিল। স্থানীয়দের প্রশ্ন, যখন হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই আগামী এপ্রিল মাসে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানির দিন ঠিক করেছিল, তখন কেন তড়িঘড়ি ভাঙচুর চালানো হল?
২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর দিল্লি পুরনিগম একটি নোটিশ জারি করে জানায়, দখল উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে ০.১৯৫ একরের বেশি জমি, যার মধ্যে মসজিদ ও কবরস্থান সংলগ্ন এলাকা রয়েছে, ভেঙে ফেলা হবে। পুরনিগমের দাবি, জমির বৈধ দখলের পক্ষে কোনও প্রমাণ পেশ করা হয়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় নথি রয়েছে। হাইকোর্টে বিষয়টি বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও অভিযান চালানোয় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।


