মালভিয়া নগরের ভয়াবহ স্মৃতি কাটতে না কাটতেই ফের বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে কেঁপে উঠল দেশের রাজধানী দিল্লি। এবার ঘটনাস্থল তুঘলকাবাদ। শুক্রবার ভোররাতে তুঘলকাবাদ এলাকার একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনে আগুন লেগে মৃত্যু হলো তিন জনের। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও পাঁচ জন। সরু গলির মধ্যে অবস্থিত ওই বহুতলটি থেকে দমকল কর্মীরা মোট আট জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, গভীর রাত ২টো ২৫ মিনিট নাগাদ ওই বহুতলে আগুন লাগার খবর মেলে। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের ৩টি ইঞ্জিন, জলের ট্যাঙ্কার ও উদ্ধারকারী দল। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, বহুতলের একতলায় পার্কিংয়ে রাখা একটি গাড়ি থেকে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন ভয়াবহ রূপ নিয়ে গোটা বহুতলে ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। বাসিন্দারা প্রাণ বাঁচাতে ছাদে আশ্রয় নিলেও সেখানে তালা মারা থাকায় তাঁরা আটকে পড়েন। পরে দমকল কর্মীরা ছাদের দরজার তালা কেটে তাঁদের উদ্ধার করেন। ভোর ৪টে নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এই দুর্ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের এইমস ও সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই মহিলা এবং এইমস ট্রমা সেন্টারে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি পাঁচ জনের অবস্থাও বেশ আশঙ্কাজনক। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী রাজেন্দ্র কুমার জানান, মাঝরাতে বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শুনে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে এসে দেখেন পার্কিংয়ে থাকা বাইক ও গাড়িগুলিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। দমকল আসার আগে স্থানীয় বাসিন্দারা বালতি হাতে মানবশৃঙ্খল তৈরি করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। রাজধানীতে একের পর এক এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আবাসনগুলির অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ।


