রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে আরও কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার হাওড়ায় প্রশাসনিক বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে এ দেশে ঢোকা ব্যক্তিদের আর আদালতে পাঠানো হবে না। তাঁদের সরাসরি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। রাজ্য সরকারের নতুন ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
হাওড়া জেলা শাসকের দফতরে আয়োজিত বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই সংক্রান্ত নির্দেশ ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসন ও রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সকে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, বুধবার থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। সেই অনুযায়ী, যদি কোনও বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে ধরা পড়েন এবং তিনি নাগরিকত্ব আইনের আওতায় আবেদন করার যোগ্য না হন, তাহলে তাঁকে আদালতে না পাঠিয়ে সরাসরি সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, হাওড়া স্টেশন বা আশপাশের এলাকায় ধরা পড়া ব্যক্তিদের প্রথমে বনগাঁর পেট্রাপোল সীমান্ত বা উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট সীমান্ত চৌকিতে নিয়ে গিয়ে বিএসএফের হাতে হস্তান্তর করা হবে। এই বিষয়ে প্রতি সপ্তাহে একটি রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
যদিও মুখ্যমন্ত্রী কোনও নির্দিষ্ট আইনের নাম উল্লেখ করেননি, তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে তিনি সম্ভবত নতুন অভিবাসন সংক্রান্ত আইনের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। ওই আইনে বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিতকরণ, নজরদারি এবং বহিষ্কারের বিষয়ে আধুনিক ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। প্রবীণ আইনজীবী ও সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, কোনও ব্যক্তিকে আদালতের প্রক্রিয়া ছাড়া অনুপ্রবেশকারী বলে ঘোষণা করা আইনসম্মত নয়। তাঁর মতে, প্রথমে আইনি উপায়ে পরিচয় যাচাই করতে হবে, তারপর প্রয়োজন হলে বহিষ্কারের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন ঘটনা সামনে এলে আদালতের দ্বারস্থ হবে সিপিএম।
অন্যদিকে, এ দিনের প্রশাসনিক বৈঠকে হাওড়ার নাগরিক পরিষেবা ও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। পানীয় জল, নিকাশি ও শহরের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য জেলা শাসকের নেতৃত্বে একটি সমন্বয় কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজ দ্রুত শেষ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।


