গরুকে আদর করলে রক্তচাপ কমতে পারে—এমনই মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার কাঁকুড়গাছিতে এক চা চক্রে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, গরুর শরীরে হাত বোলালে মানসিক শান্তি আসে এবং তার প্রভাব শরীরের উপরও পড়তে পারে। বিশেষ করে গরুর পিঠের কুঁজ বা গলার নিচের অংশে হাত রাখলে রক্তচাপ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে বলে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।
যদিও তিনি কোনও চিকিৎসক নন, তবুও নিজের পর্যবেক্ষণের কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যেমন আলোচনা শুরু হয়েছে, তেমনই চিকিৎসক মহলের একাংশও এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।
চা চক্রে দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, গরুর গোবরের মধ্যেও কিছু উপকারী গুণ রয়েছে। তিনি জানান, তাঁর এক আত্মীয়ের শরীরের একটি ফোলা জায়গায় গরুর গোবর ব্যবহার করার পর নাকি সেই সমস্যা অনেকটাই কমে যায়। সেই অভিজ্ঞতার কথা উপস্থিতদের সামনে তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্রামের মানুষ বহুদিন ধরেই এই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে আসছেন।
মন্ত্রী এদিন দুগ্ধ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন গোশালার মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। সেই বৈঠকের আগেই তাঁর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, পশুপালন, প্রাণী সম্পদ ও কৃষি বিপণনের মতো দফতরের দায়িত্বও বর্তমানে তাঁর হাতে রয়েছে।
দিলীপ ঘোষ অতীতেও গরু নিয়ে একাধিক মন্তব্য করে শিরোনামে এসেছেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি থাকার সময় তিনি বলেছিলেন, দেশি গরুর দুধে সোনার উপাদান থাকে। সেই মন্তব্য নিয়েও তখন প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে।
এদিকে, গরুর উপকারিতা নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য নতুন নয়। ২০২৪ সালে উত্তরপ্রদেশে এক সরকারি অনুষ্ঠানে রাজ্যের মন্ত্রী সঞ্জয় সিং গাঙ্গওয়াও দাবি করেছিলেন, নিয়মিত গরুর পিঠে হাত বোলালে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাঁর বক্তব্য ছিল, এতে ওষুধের প্রয়োজনও ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে।


