দীর্ঘদিনের আইনি জট কাটিয়ে আমেরিকায় বড় স্বস্তি পেলেন শিল্পপতি গৌতম আদানি এবং তাঁর ভাইপো সাগর আদানি। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক আর্থিক অনিয়ম ও নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের অভিযোগ থেকে সরে এল মার্কিন প্রশাসন। ফলে বহুদিন ধরে চলা বিতর্কের পর আপাতত স্বস্তিতে আদানি গোষ্ঠী।
মার্কিন তদন্তকারী সংস্থাগুলির অভিযোগ ছিল, আমেরিকার বাজার থেকে তোলা বিপুল অর্থ ব্যবহার করে ভারতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া হয়েছিল। এই অভিযোগ ঘিরেই মামলা শুরু হয়। তদন্ত চলাকালীন আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আর্থিক তথ্য গোপন করার অভিযোগও ওঠে। তবে শেষ পর্যন্ত মার্কিন বিচার বিভাগ সেই মামলাগুলি আর এগিয়ে না নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
জানা গিয়েছে, আমেরিকায় প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আশ্বাস দিয়েছে আদানি গোষ্ঠী। ভারতীয় টাকায় যার পরিমাণ কয়েক লক্ষ কোটি টাকা। এই বিপুল বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির পরই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা। যদিও সরকারি ভাবে এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
এছাড়াও, ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়েও আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও পরোক্ষ পথে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস কেনা হয়েছিল বলে অভিযোগ ছিল। তদন্তে দাবি করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশের নাম ব্যবহার করে আসলে ইরান থেকেই গ্যাস আনা হয়েছিল। পরে এই মামলাও সমঝোতার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া হয়। এর জন্য কয়েকশো মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতেও রাজি হয়েছে সংস্থা।
আমেরিকার প্রশাসনের অন্দরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এত সহজে মামলা থেকে মুক্তি মিলল। বিশেষ করে আগের বাইডেন প্রশাসনের সময় এই অভিযোগগুলি বেশ গুরুত্ব দিয়েই দেখা হয়েছিল।
রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিরোধীদের দাবি, আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে কেন্দ্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী আগেও অভিযোগ করেছিলেন, আন্তর্জাতিক স্তরে আদানি গোষ্ঠীকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই কেন্দ্র বিশেষ ভূমিকা নিচ্ছে। সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তের পর ফের সেই অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে আদানি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। আদালতের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের কিছু প্রক্রিয়া এখনও বাকি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।


