২০২২ সালে কর্নাটকে হিজাবকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার রেশ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। সেই সময় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরা নিয়ে আপত্তি ওঠে। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশে হিজাব নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। অনেক ছাত্রী তখন স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, তাদের কাছে হিজাব শুধু পোশাক নয়, বরং বিশ্বাস ও আত্মসম্মানের অংশ।
এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার ডোমজুড়ে নতুন করে হিজাবকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় একটি কলেজে কিছু যুবক গিয়ে ছাত্রীদের হিজাব পরে আসা বন্ধ করার নির্দেশ দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পোশাকের কোনও জায়গা নেই। এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
যে কলেজটিকে ঘিরে এই ঘটনা, সেটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এখানে পড়ুয়াদের বড় অংশই মহিলা, এবং তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম ছাত্রী রয়েছে। হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। ছাত্রীদের একাংশ জানিয়েছে, তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। শুধু ছাত্রীরাই নয়, তাদের পরিবারও পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, যারা এই নির্দেশ দিয়েছে তারা নিজেদের একটি ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করছে। এমনকি রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তারা নিজেদের অবস্থানকে জোরালো করার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ। যদিও এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের তরফে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।
রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই বিভিন্ন কলেজে প্রভাব বিস্তার নিয়ে টানাপোড়েনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই ঘটনাও সেই প্রেক্ষাপটেই ঘটেছে বলে অনেকের মত। তবে শিক্ষাঙ্গনে এমন ঘটনা ঘটায় প্রশ্ন উঠছে, পড়াশোনার পরিবেশ কতটা নিরাপদ রয়েছে।
দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একাধিকবার মুসলিম মহিলাদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের কথা বলেছেন। কিন্তু মাঠস্তরে এর উল্টো ছবি দেখা গেলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই। অনেকেই মনে করছেন, যদি এই ধরনের ঘটনা চলতে থাকে, তাহলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মেয়েদের শিক্ষার পথে বাধা তৈরি হতে পারে।
এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ধর্ম নির্বিশেষে বহু মানুষ এই ঘটনার বিরোধিতা করেছেন এবং শিক্ষাঙ্গনে শান্তি ও সহনশীলতা বজায় রাখার দাবি তুলেছেন।


