নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির খবর সামনে আসলেও, কোচবিহারের দিনহাটা মহকুমার সিতাই বিধানসভার একটি গ্রাম থেকে উঠে এল এক অন্য ছবি। পুটিমারি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বড় নাচিনা বাঁশতলা এলাকায় হিন্দু ও মুসলিম—দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে এগিয়ে এসে শান্তি বজায় রাখার ডাক দিলেন। শুধু তাই নয়, এলাকায় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য রাত জেগে পাহারা দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন গ্রামবাসীরা।
স্থানীয়দের কথায়, ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই আশপাশের কিছু এলাকায় ভাঙচুর ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মীর বাড়িতে হামলা, জিনিসপত্র নষ্ট করা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে গ্রামেও ভয় ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। কোথাও বলা হচ্ছিল, এক সম্প্রদায়ের লোক অন্য সম্প্রদায়ের এলাকায় হামলার জন্য জড়ো হচ্ছে। যদিও পরে দেখা যায়, এই খবরগুলির কোনও ভিত্তি নেই।
এই গুজবের জেরে গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকেই রাত জেগে থাকতেন, কখন কী ঘটে যায় সেই আশঙ্কায়। শিশু ও মহিলাদের মধ্যেও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন গ্রামের মানুষই। তাঁরা বুঝতে পারেন, ভুয়ো খবরের ফাঁদে পা দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। গ্রামের বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে জানান, তারা বহুদিন ধরেই মিলেমিশে বসবাস করছেন এবং ভবিষ্যতেও সেই ঐক্য বজায় রাখতে চান। কোনও দুষ্কৃতী যদি এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করে, তাহলে সবাই মিলে তার মোকাবিলা করবেন। এই উদ্দেশ্যে রাত পাহারার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একজন স্থানীয় ধর্মগুরু বলেন, ভাল শক্তির জয়ের জন্য সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে। গ্রামের মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যে কোনও খারাপ শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন বলেও তিনি জানান। অন্যদিকে, এক মহিলা বাসিন্দা জানান, দিনের তুলনায় রাতের ভয় অনেক বেশি। তাই নিরাপত্তার জন্য সবাই মিলে পাহারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। স্থানীয় এক শিক্ষকও বলেন, কয়েকদিন ধরে এলাকায় অশান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তবে তা বাইরের কিছু দুষ্কৃতীর কাজ। সাধারণ মানুষ শান্তিতে থাকতে চান এবং কোনও বিভেদ চান না।


