চীন সফর ঘিরে শুরুতে বড় প্রত্যাশা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখযোগ্য কোনও কূটনৈতিক সাফল্য নিয়ে ফিরতে পারেননি বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। বেজিংয়ে তাঁকে জাঁকজমকভাবে স্বাগত জানানো হলেও বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলির কোনও স্পষ্ট সমাধান সামনে আসেনি।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই বৈঠককে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা বলে উল্লেখ করেন। তিনি ট্রাম্পের জনপ্রিয় নির্বাচনি স্লোগান “মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন”-এরও প্রশংসা করেন। জিনপিংয়ের মতে, আমেরিকার উন্নতির এই ভাবনা চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গেও মিল রয়েছে। পাল্টা ট্রাম্পও চীনা প্রেসিডেন্টকে “শক্তিশালী ও দূরদর্শী নেতা” বলে প্রশংসা করেন। দুই নেতার এই সৌহার্দ্যপূর্ণ বার্তা আন্তর্জাতিক মহলে নজর কাড়ে।
তবে রাজনৈতিক সৌজন্যের বাইরে বাস্তবিক কোনও বড় অগ্রগতি হয়নি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকা ও চীনের মধ্যে একাধিক ইস্যুতে টানাপোড়েন চলছে। তার মধ্যে অন্যতম তাইওয়ান প্রশ্ন। তাইওয়ানের অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মতপার্থক্য বহুদিনের। কিন্তু এই সফরে ট্রাম্প সেই বিষয়ে চীনের কাছ থেকে কোনও ইতিবাচক আশ্বাস আদায় করতে পারেননি বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়াও বিরল মৃত্তিকা মৌল বা রেয়ার আর্থ খনিজ নিয়ে দুই দেশের স্বার্থের সংঘাত রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে এই খনিজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববাজারে এই সম্পদের উপর চীনের প্রভাব অনেক বেশি। বৈঠকে এই বিষয়েও কোনও নতুন সমঝোতা হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সংস্থা বোয়িং-এর যুদ্ধবিমান কেনা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। যদিও চীন কিছু বিমান কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে, তবে সেই সংখ্যা ওয়াশিংটনের প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই কম। ফলে সফরের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আমেরিকার রাজনৈতিক মহলেও। সমালোচকদের একাংশের মতে, এত বড় সফরে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও বাস্তবে লাভ খুব কম হয়েছে।
এদিকে চীন সফরের মধ্যেই নতুন করে ইরান প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। সম্প্রতি নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ’-এ ট্রাম্প একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি লেখেন “ঝড়ের আগের শান্তি”। সঙ্গে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ছবিও পোস্ট করা হয়। সেই ছবিতে উত্তাল সমুদ্রের মাঝে একটি যুদ্ধজাহাজে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাঁকে।
এই পোস্ট ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, ইরানকে ঘিরে ভবিষ্যতে আরও বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। কারণ, বর্তমানে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি চললেও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ফলে ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।


