মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর পরিবারের ঘোষিত ‘টি১’ স্মার্টফোনকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফোনের জন্য অগ্রিম অর্থ জমা দেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পণ্য হাতে না পাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রাহকেরা।
গত বছরের জুলাই মাসে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক সংস্থা একটি অভিনব স্মার্টফোন বাজারে আনার ঘোষণা করে। সংস্থার নেতৃত্বে রয়েছেন ট্রাম্পের দুই পুত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প। সোনালি রঙের এই স্মার্টফোনকে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়। ফোনটির আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয় ‘টি১’।
সংস্থার তরফে জানানো হয়েছিল, মাত্র ১০০ ডলার অগ্রিম জমা দিয়ে ফোনটি বুক করা যাবে। বহু ট্রাম্প সমর্থক অনলাইনে অর্থ জমা দিয়ে আগাম অর্ডার করেন। ফোনটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৯৯ ডলার, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৮ হাজার টাকা। ঘোষণা অনুযায়ী, ওই বছরের আগস্ট মাস থেকেই ফোন সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা ছিল।
ট্রাম্প পরিবারের দাবি ছিল, আগাম অর্ডার দেওয়া গ্রাহকেরাই প্রথম ফোন পাবেন। এমনকি নির্ধারিত সময়ে ফোন বাজারে না এলে অগ্রিম ১০০ ডলার ফেরত দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু সেপ্টেম্বর মাস পেরিয়ে গেলেও ফোন বাজারে আসেনি। অভিযোগ, গ্রাহকদের টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। পরে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারি নীতিগত জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে ফোন বাজারে আনা সম্ভব হয়নি। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ফোন সরবরাহের কথা বলা হয়।
তবে মে মাস পর্যন্তও ফোন বাজারে না আসায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প পরিবারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন বহু ক্রেতা।
বিতর্ক আরও বাড়ে যখন সংস্থা জানায়, আগাম অর্থ দেওয়া গ্রাহকদের সঙ্গে বিক্রিসংক্রান্ত কোনও আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। ফলে পণ্য সংরক্ষণ বা মজুত রাখার বাধ্যবাধকতা নেই বলেও দাবি করা হয়।
এর জেরে গ্রাহকদের ফোন পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অগ্রিম অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, ফোন প্রকল্পের নামে প্রায় ৬ কোটি ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক সেনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন কড়া সমালোচনা করে বলেন, ফোন সরবরাহে বারবার টালবাহানা পরিস্থিতিকে সন্দেহজনক করে তুলছে এবং এটি ট্রাম্প পরিবারের নতুন কৌশল বলেই মনে হচ্ছে।
প্রচারিত ফিচার নিয়ে বড়সড় দাবি
২০২৫ সালে ফোনটির প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য নিয়েও ব্যাপক প্রচার চালানো হয়েছিল। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, ‘টি১’ স্মার্টফোনে থাকছে—
- ৬.৮ ইঞ্চি AMOLED ডিসপ্লে
- ১২০ হার্ৎজ রিফ্রেশ রেট
- ৫০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা
- ৫০০০ mAh ব্যাটারি
- অ্যান্ড্রয়েড ১৫ অপারেটিং সিস্টেম
- ১২ জিবি RAM ও ২৫৬ জিবি এক্সপ্যান্ডেবল স্টোরেজ
- ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও AI-ভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা
এছাড়াও প্রতি মাসে ৪৭.৪৫ ডলারে আনলিমিটেড ডেটা, কল ও মেসেজ পরিষেবার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। আন্তর্জাতিক কলের জন্য আলাদা খরচ লাগবে না বলেও জানানো হয়।
ফোনের দেখা না মেলায় এখন চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন অগ্রিম অর্থ দেওয়া ক্রেতারা। টাকা ফেরত পাওয়া যাবে কি না এবং আদৌ ফোন বাজারে আসবে কি না— তা নিয়েই তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্নচিহ্ন।


