বহু বছর ধরে সামাজিক মাধ্যমে শিশুদের স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরছিলেন হায়দরাবাদের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শিবরঞ্জনি সন্তোষ। কিন্তু সম্প্রতি তিনি ইনস্টাগ্রাম থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিশু চিকিৎসকদের সংগঠন ইন্ডিয়ান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস (আইএপি) থেকেও পদত্যাগ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, একটি বিতর্কিত পানীয় সংস্থার বিরুদ্ধে তিনি যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, তা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেনি সংগঠনের নেতৃত্ব।
ডা. সন্তোষের দীর্ঘদিনের আপত্তি ছিল এমন কিছু পানীয় পণ্যের বিরুদ্ধে, যেগুলি নিজেদের এমনভাবে বাজারজাত করে যে সাধারণ মানুষ সেগুলিকে ওআরএস বা ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশনের বিকল্প বলে মনে করতে পারেন। চিকিৎসকদের মতে, ডায়রিয়া ও জলশূন্যতার ক্ষেত্রে ওআরএস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা উপাদান। এর নির্দিষ্ট রাসায়নিক গঠন রয়েছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা মেনে তৈরি করা হয়। এই গঠনে পরিবর্তন হলে রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে।
কিছুদিন আগে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফএসএসএআই নির্দেশ দেয়, যেসব পানীয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত ওআরএস ফর্মুলা অনুসরণ করে না, তারা আর নিজেদের নামের সঙ্গে “ওআরএস” শব্দ ব্যবহার করতে পারবে না। এরপর একটি বহুজাতিক ভোক্তা স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের একটি জনপ্রিয় পানীয়র নতুন নামকরণ করে।
তবে ডা. সন্তোষের দাবি, নাম পরিবর্তন হলেও নতুন পণ্যের প্যাকেট, রং, লেখার ধরন এবং সামগ্রিক উপস্থাপনা আগের মতোই রাখা হয়েছে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এই কারণেই তিনি নতুন ব্র্যান্ডের নামের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানান।
অন্যদিকে সংস্থার দাবি, তারা সমস্ত সরকারি নির্দেশিকা মেনেই নতুন ব্র্যান্ড চালু করেছে। কোম্পানির বক্তব্য, নতুন নামের সঙ্গে “ওআরএস” শব্দের কোনও মিল নেই এবং এটি আইনসম্মতভাবেই ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিতর্ক আরও বাড়ে যখন ডা. সন্তোষ অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আইএপির বার্ষিক সম্মেলনে স্টল বসানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর প্রশ্ন, যদি কোনও পণ্যকে ঘিরে বিভ্রান্তির আশঙ্কা থাকে, তাহলে চিকিৎসকদের সম্মেলনে সেই সংস্থার উপস্থিতি কেন অনুমোদন করা হল?
যদিও আইএপি পরে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে ওআরএস এবং সাধারণ ইলেকট্রোলাইট পানীয়র মধ্যে পার্থক্য ব্যাখ্যা করে। সেখানে চিকিৎসকদের সতর্ক থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়। তবে ডা. সন্তোষ মনে করেন, সংগঠনটি আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারত।
এছাড়াও তিনি ওই পানীয়ে ব্যবহৃত কৃত্রিম মিষ্টিকারক উপাদান ‘সুক্রালোজ’ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। কয়েক বছর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি জানিয়েছিল, এই ধরনের উপাদান নিয়মিত ব্যবহারের দীর্ঘমেয়াদি উপকারিতা সম্পর্কে এখনও পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।একটি পানীয় পণ্যের বিপণন পদ্ধতি, জনস্বাস্থ্য এবং চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে এই বিতর্ক নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।


