আফ্রিকার বুকে নতুন করে দাপট দেখাতে শুরু করেছে মারণ ভাইরাস ইবোলা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ভাইরাসের সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে, তাতে কঙ্গোসহ গোটা বিশ্বের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। সাম্প্রতিকতম সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কঙ্গোয় ইবোলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩৫ জনে। একই সঙ্গে উদ্বেগ বাড়িয়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা মানুষের সংখ্যাও। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে এই হার ৫৬.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৬১.১ শতাংশে পৌঁছে গেছে।
কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী রজার কাম্বা বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে এর মধ্যেও তিনি একটি আশার আলো দেখিয়েছেন। তাঁর দাবি, সঠিক সময়ে চিকিৎসার ফলে অনেকেই এই মারণ রোগ থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠছেন। সুস্থতার এই হার সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসার ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। উল্লেখ্য, মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে কঙ্গো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে যে দেশে ইবোলার মারাত্মক ‘বুন্ডিবুগিও স্ট্রেন’ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে স্বাস্থ্য দপ্তরের একাংশের মতে, সরকারি ঘোষণার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই অলক্ষ্যে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছিল।
আপাতত এই ভাইরাসের প্রকোপ কঙ্গো এবং উগান্ডার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে ভৌগোলিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কারণে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আফ্রিকার এই সীমান্ত এলাকাটি দীর্ঘ দিন ধরে গৃহযুদ্ধ, রাজনৈতিক সংঘাত, মানুষের বাস্তুচ্যুতি এবং অত্যন্ত দুর্বল স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত আবহের কারণে বহু আক্রান্ত মানুষ হয়তো শনাক্তকরণের বাইরেই থেকে যাচ্ছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন রোগীর মৃত্যুর খবর মিলেছে। এমনকী দেশের রাজধানী কাম্পালাতেও কিছু বিচ্ছিন্ন সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যাদের সঙ্গে সীমান্ত এলাকার সরাসরি কোনো যোগসূত্র এখনো মেলেনি। এই জটিল পরিস্থিতিতে গোটা আফ্রিকা জুড়েই উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।


