রমজান মাসকে ঘিরে মিশরে একটি ব্যতিক্রমী সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠেছে। এই সময়ে ইসরাইলি পণ্য, বিশেষ করে খেজুর কেনা থেকে বিরত থাকার ডাক দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সাধারণত ইফতারের সময় খেজুর খাওয়ার রীতি থাকলেও এবার সেই খেজুরই হয়ে উঠেছে প্রতিবাদের ভাষা। অনেকের কাছে এটি এখন ফিলিস্তিনিদের পাশে থাকার প্রতীক।রমজান শুরুর আগেই সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ইসরাইল থেকে আসা খেজুরের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নাম ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মানুষ একে অপরকে সতর্ক করছে যেন এসব পণ্য কেউ না কেনে। এই প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক সচেতন নাগরিকরা।গত জানুয়ারিতে একজন পরিচিত প্রকৌশলী ও রাজনৈতিক কর্মী তার সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি জানান, মিশরের বাজারে কিছু বিদেশি খেজুর পাওয়া যাচ্ছে, যেগুলোর উৎস ইসরাইল। তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন এসব পণ্য বর্জন করতে এবং দোকানিদের এগুলো বিক্রি বন্ধ করতে চাপ দিতে।এই আন্দোলনের পেছনে মূল কারণ গাজায় চলমান সংঘাত ও সেখানে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি। প্রতিবাদকারীদের মতে, ইসরাইলি পণ্য কেনা মানে পরোক্ষভাবে সেই আগ্রাসনকে সমর্থন করা। যদিও মিশর সরকার বলছে, তারা সরাসরি ইসরাইল থেকে খেজুর আমদানি করে না, তবে আন্দোলনকারীরা মনে করছেন, অন্য দেশের নাম ব্যবহার করে এসব পণ্য বাজারে ঢুকছে।এদিকে সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরে মিশর ও ইসরাইলের মধ্যে বাণিজ্য আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছেন দেশটির সাবেক শ্রমমন্ত্রী। তার মতে, এই বাণিজ্য বাড়লে ইসরাইলের সামরিক খাত আরও শক্তিশালী হয়, যা ফিলিস্তিনিদের জন্য ক্ষতিকর।বিশ্বের বড় খেজুর উৎপাদক দেশ হওয়া সত্ত্বেও মিশরের বাজারে বিদেশি খেজুরের উপস্থিতি মানুষকে হতাশ করেছে। অনেক মিশরীয় এখন ইফতারের সময় দেশীয় খেজুর বেছে নিচ্ছেন।
Popular Categories


