ভোট ঘোষণার আগেই রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠল। অভিযোগ, একাধিক নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তকে দ্রুত পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।কমিশনের তরফে জানা গেছে, ভোটের ঘোষণা হওয়ার আগেই তৃণমূলের ৮০০-র বেশি নেতা-কর্মী এবং আরও কিছু ব্যক্তির নিরাপত্তার জন্য কয়েক হাজার পুলিশকর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র ৮৩২ জন তৃণমূল নেতার নিরাপত্তার জন্যই বড় সংখ্যার বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১৪৪ জনের নিরাপত্তাতেও পুলিশ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, কেন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের এত সংখ্যক মানুষকে বাড়তি সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে।নির্বাচন কমিশন মনে করছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন এবং কোনও ধরনের অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা থাকলে তা দ্রুত প্রত্যাহার করা উচিত। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে রাজ্য পুলিশকে। একইসঙ্গে নিরাপত্তা বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।সম্প্রতি মালদহ জেলায় ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অনেকের দাবি ছিল, বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান বহু মানুষ। পথ অবরোধের ঘটনাও ঘটে, যার জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।এই ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে। কমিশনের প্রধান আধিকারিকের প্রশ্ন ছিল, প্রথমেই কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনিক দফতরের সামনে অস্থিরতা চলতে থাকলেও কেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেই বিষয়েও জবাবদিহি চাওয়া হয়।মালদহের ঘটনার প্রেক্ষিতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকেও। এরই মধ্যে আবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ল রাজ্য পুলিশ। ভোটের আগে প্রশাসনিক ভূমিকা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে চাপ বাড়ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূল নেতাদের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ঘিরে প্রশ্ন, রাজ্য ডিজিকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ কমিশনের
Popular Categories


