অসমের ধুবড়ি জেলার চিরাকুঠা গ্রামে গত কয়েক মাস ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বোদিয়াত জামাল ও তাঁর পরিবার। এক সময় যেখানে তাঁদের পাকা বাড়ি ছিল, আজ সেখানে শুধু স্মৃতি। বর্তমানে তাঁরা ত্রিপল টাঙিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছেন।গত বছরের জুলাই মাসে রাজ্য সরকারের এক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য এই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারায়। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৪০০টি বাংলাভাষী মুসলিম পরিবারকে সেই সময় সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অধিকাংশ পরিবার অন্যত্র চলে গেলেও, জামাল নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে যেতে পারেননি।পেশায় রাজমিস্ত্রি জামাল এখন কাজের ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর পরিবারের নয়জন সদস্যের নাম বাদ পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভোট দিয়ে আসা সত্ত্বেও এবার ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কায় ভুগছেন তাঁরা। জামালের কথায়, ভোটার পরিচয়পত্র না থাকলে বাইরে গিয়ে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন জেলায় কাজ করতে গেলে পরিচয়পত্র প্রয়োজন হয়, আর সেটাই এখন তাঁর কাছে নেই।তিনি জানান, কিছুদিন আগে তিনি ডিব্রুগড়ে কাজ করছিলেন। কিন্তু নিজের নাম ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি ওঠার খবর পেয়ে তাঁকে ফিরে আসতে হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন যে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বাইরে কাজ করতে যাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।শুধু জামাল নন, চিরাকুঠা গ্রামের আরও বহু মানুষের একই অবস্থা। জানা গেছে, এই গ্রামের অন্তত ২২১ জন ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এছাড়া ধুবড়ি ও উরিয়ামঘাট অঞ্চলে উচ্ছেদ হওয়া হাজার হাজার মানুষের নামও তালিকা থেকে বাদ গেছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে বাসস্থান পরিবর্তনের কারণে নাম বাদ পড়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেকেই গ্রাম ছাড়েননি, তবুও তাঁদের নাম তালিকায় নেই। জামালও দাবি করেন, তিনি গ্রামেই আছেন, তবুও তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে তিনি নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন করেছেন, কিন্তু এখনও তা গৃহীত হয়নি। ফলে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা আরও বাড়ছে তাঁর পরিবারের। এদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। কিছু আসনে ভোটের ভারসাম্য বদলানোর উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি। বাড়ি হারানোর পাশাপাশি ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কা—এই দুইয়ের চাপেই এখন দিন কাটাচ্ছেন জামালদের মতো বহু পরিবার।
ভিটেমাটি হারানোর পর এবার ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা, চূড়ান্ত তালিকা থেকে একাধিক মুসলিম নাম বাদ অসমে
Popular Categories


