ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ ঘিরে রাজ্যে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা SIR নিয়ে একের পর এক নির্দেশ বদলানোয় সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে যুক্ত BLO-রা। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশ আরও বিভ্রান্তি বাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড আর SIR-এর নথি হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। জন্মতারিখের প্রমাণ হিসেবেও এই অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথি হিসেবে ধরা হচ্ছে না। অথচ SIR শুরু হওয়ার সময় বলা হয়েছিল মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট গ্রহণ করা হবে। পরে রাজ্যের সিইও দফতর জানায়, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে যেহেতু জন্মতারিখ লেখা থাকে, তাই শুনানির সময় সেটি গ্রহণ করা যেতে পারে। এমনকি যাঁরা মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে পারেননি বা পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছেন, তাঁরাও এই অ্যাডমিট কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন বলে আলোচনা হয়েছিল। এই প্রস্তাব রাজ্যের সিইও দফতর থেকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু কমিশন সেই আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড কোনওভাবেই নথি হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে সমস্যায় পড়েছেন বহু মানুষ, কারণ ইতিমধ্যেই অনেকেই নিজেদের অ্যাডমিট কার্ড জমা দিয়েছেন।
এদিকে বারবার নির্দেশ বদলানোয় ক্ষোভ বাড়ছে BLO-দের মধ্যেও। তাঁদের অভিযোগ, কী করতে হবে, শুনানিতে যেতে হবে কি না, নতুন অপশনগুলোর ব্যবহার কীভাবে হবে, এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হচ্ছে না। সম্প্রতি BLO অ্যাপে হঠাৎ করে নতুন একটি অপশন যোগ করা হয়েছে, যার নাম ‘documents uploaded by citizen against hearing’। কিন্তু এই অপশন ব্যবহারের নিয়ম নিয়ে কোনও পরিষ্কার নির্দেশ নেই। নির্বাচন কমিশন ভোটার পোর্টালে শুনানির নোটিস দেখার সুবিধা চালু করলেও মাঠপর্যায়ে কাজ করা কর্মীরা এখনও বিভ্রান্ত। BLO-দের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে কমিশনের সব নির্দেশ স্পষ্ট ও একরকম হওয়া জরুরি। না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।


