তেলেঙ্গানার নিজামাবাদে শেখ রিয়াজ নামক ২৪ বছর বয়সি এক মুসলিম যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি ফ্যাক্ট–ফাইন্ডিং টিম দাবি করেছে, রিয়াজকে ভুয়ো এনকাউন্টারের নামে হত্যা করা হয়েছে ফলে হেফাজতে নির্যাতন ও পুলিশি দুর্নীতি আড়াল করা যায়। ১০টি সদস্যের এই অনুসন্ধান দলটি আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীদের নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে ছিলেন খালিদা পারভিন, সারা ম্যাথিউস, মজিদ শুট্টারি, অ্যাডভোকেট সামির আলি প্রমুখ। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর গত সপ্তাহে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, নিজামাবাদের মহম্মদীয়া কলোনির বাসিন্দা শেখ রিয়াজ একটি বেসরকারি অর্থ সংস্থায় কাজ করতেন। ১৭ অক্টোবর তাকে পুলিশের হেফাজতে নিয়ে যাওয়ার সময় এক কনস্টেবল ই. প্রমোদ কুমারকে ছুরি দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে। প্রমোদের মৃত্যুর পর পুলিশ রিয়াজকে পলাতক অপরাধী ঘোষণা করে তল্লাশি শুরু করে। পরে জানানো হয়, ধরা পড়ার সময় রিয়াজ নাকি পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে গুলি চালান, ফলে পাল্টা গুলিতে তার মৃত্যু হয়।
কিন্তু ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমের দাবি, রিয়াজ ইতিমধ্যেই পুলিশের হেফাজতে ছিলেন এবং তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আরও ভয়াবহ অভিযোগ, রিয়াজের মা, স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানকেও বেআইনি ভাবে আটকে রেখে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করা হয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, “রিয়াজের পরিবারকে সন্ত্রাসীর পরিবার হিসেবে আচরণ করা হয়েছিল, তাদের চোখে ও শরীরে লঙ্কার গুঁড়ো দেওয়া হয়।”
দলটির মতে, পুরো ঘটনার সূত্র শুরু হয় নকল নোটের চক্র থেকে। রিয়াজ তার কাজের সূত্রে একটি স্কুটার উদ্ধার করেছিলেন, যেখানে ভুয়ো নোট লুকিয়ে রাখা ছিল। স্কুটারের মালিক আসিফ নামক এক ব্যক্তির সঙ্গে এই ঘটনায় তার বিরোধ তৈরি হয়। জানা যায়, কিছু পুলিশ কর্মকর্তা এই নোট চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং রিয়াজকে দিয়ে টাকার আদানপ্রদান করানো হতো।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, পুলিশের বিবরণে রিয়াজকে অপরাধী হিসেবে দেখিয়ে সত্যিটা আড়াল করা হয়েছে। এমনকি আসিফ, যিনি এই ভুয়ো নোট চক্রের মূল অভিযুক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে, তাকেই পরে পুলিশ সাহসিকতার জন্য পুরস্কার প্রস্তাব করে। ফ্যাক্ট–ফাইন্ডিং দলটি অভিযোগ করেছে, স্থানীয় পুলিশ নিজেরাই জড়িত থাকায় তদন্ত নিরপেক্ষ হয়নি। তাই তারা সিবিআই এর কাছে তদন্ত, হেফাজতে খুন ও যৌন নির্যাতনের মামলা রুজুর পাশাপাশি রিয়াজের পরিবারের জন্য ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ ও তার স্ত্রীর সরকারি চাকরির দাবি জানিয়েছে।


