পশ্চিম এশিয়ায় আবারও উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা এবং একাধিক কূটনৈতিক পদক্ষেপের পরেও হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে নতুন করে বিরোধ সামনে এসেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ নিয়ে দুই দেশের অবস্থান একেবারেই বিপরীত হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার এক সাক্ষাৎকারে জানান, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তার দায়িত্ব আমেরিকা নিতে চায়। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে এই জলপথ সব সময় খোলা রাখা প্রয়োজন। সেই কারণে আমেরিকা সেখানে নজরদারি চালাবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই পথে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজগুলির কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে শুল্ক নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, ইরানের সঙ্গে অতীতে একাধিকবার আলোচনা ও সমঝোতা হলেও তা বারবার ভেঙে গিয়েছে। তাঁর মতে, বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা হওয়ার পরেও ইরান শেষ মুহূর্তে অবস্থান বদল করেছে। তাই ভবিষ্যতে তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, ইরান আমেরিকার বক্তব্য পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছে। তেহরানের দাবি, হরমুজ প্রণালী তাদের কৌশলগত নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। তাই তাদের অনুমতি ছাড়া কোনও জাহাজ সেখানে চলাচল করতে পারবে না। সম্প্রতি ইরানের একটি সরকারি সংস্থা জানিয়েছে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই জলপথ ব্যবহার করতে হলে তাদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
এদিকে ব্রিটেনও ইরানকে ঘিরে কড়া অবস্থান নিয়েছে। ব্রিটিশ সরকার ঘোষণা করেছে, ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসিকে সমর্থন করা কিংবা তাদের পক্ষে প্রচার চালানোকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ ধরনের কাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে সামরিক পাল্টা পদক্ষেপের খবর। আইআরজিসি দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত কয়েকটি মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। পাশাপাশি কিছু সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবিও করেছে তারা। যদিও এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনও নিশ্চিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
বিশ্বের মোট তেল পরিবহণের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে হয়ে থাকে। ফলে এই জলপথে কোনও ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে পড়তে পারে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক সরবরাহে সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে আমেরিকা ও ইরান উভয় দেশই নিজেদের অবস্থানে অনড়। ফলে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই নতুন সংকট আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।


