ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, যাঁদের নাম কাটা হয়েছে তাঁরা ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হতে পারবেন। ট্রাইব্যুনাল যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে কে ভারতীয় নাগরিক এবং কার নাম ভোটার তালিকায় থাকবে। কিন্তু এবার নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ভোট দেওয়ার পরও তাঁদের আবার নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। নোটিশে বলা হয়েছে, কলকাতার জোকায় অবস্থিত ট্রাইব্যুনালে প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে হাজির হতে হবে। সেখানে শুনানির পর ঠিক হবে তাঁরা নাগরিক কি না।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কারণ, যাঁদের কাছে নোটিশ পৌঁছেছে, তাঁদের অনেকেই দাবি করছেন যে তাঁরা আগে থেকেই ভোটার তালিকায় ছিলেন এবং সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন। কারও কারও নাম প্রথমে সন্দেহভাজন তালিকায় থাকলেও পরে যাচাইয়ের পর ফের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
ফরাক্কার আধুয়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার ক্ষেত্রে এই সমস্যা সামনে এসেছে। কামরুল শেখ, নাসির শেখ ও নাজমুল শেখ নামে তিন ভাইয়ের কাছে নতুন করে ট্রাইব্যুনালের নোটিশ পৌঁছেছে। তাঁদের জানানো হয়, দ্রুত জোকায় গিয়ে হাজিরা দিতে হবে। পরে সেখানে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, তাঁদের নাম আবার ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
পরিবারের দাবি, এর আগেও তাঁরা শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন। সেই সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর কমিশনের সম্পূরক তালিকায় তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। এরপর তাঁরা ভোটও দেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই ফের নতুন নোটিশ আসে। কেন আবার তাঁদের নাম বাদ গেল, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা মেলেনি বলে অভিযোগ।
শুধু এই তিনজন নন, একই এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দার কাছেও একই ধরনের নোটিশ পৌঁছেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, অন্তত আটজন ব্যক্তি নতুন করে ট্রাইব্যুনালে হাজিরার নির্দেশ পেয়েছেন। তাঁদের সকলেই এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। অনেকেই বুঝতে পারছেন না, একবার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর আবার কেন নতুন করে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে। দূরের ট্রাইব্যুনালে যাতায়াত এবং নথি সংগ্রহ নিয়েও সমস্যার মুখে পড়ছেন বহু পরিবার।
এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এই রাজ্যে বসবাস করছেন। ভোটার পরিচয়পত্র-সহ একাধিক সরকারি নথিও তাঁদের রয়েছে। তা সত্ত্বেও বারবার শুনানির মুখোমুখি হতে হওয়ায় মানসিক চাপ বাড়ছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রানির মধ্যে ফেলা হচ্ছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


