কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুরসভা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর শহরের একাধিক জায়গায় শুরু হয়েছে অবৈধ ভবন ভাঙার অভিযান। রবিবার সকাল থেকেই তপসিয়া, কসবা ও বেলেঘাটার বিভিন্ন এলাকায় পুরসভার কর্মীরা বুলডোজার নিয়ে পৌঁছে যান। সঙ্গে ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
পুরসভা সূত্রে খবর, বেশ কিছু নির্মাণকে আগেই বেআইনি বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। সেই সব বাড়ির মালিক ও কর্তৃপক্ষকে নোটিশ পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে এবং শুনানিতে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেউই হাজির হননি। এরপরই পুরসভা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয়।
রবিবার সকালে প্রথম অভিযান চলে তিলজলার তপসিয়ার জিজে খান রোড এলাকায়। সেখানে খালের ধারে তৈরি হওয়া কয়েকটি বহুতল ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কোথাও সাততলা, কোথাও আবার তিনতলা বাড়ি গড়ে উঠেছিল বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বহুদিন ধরেই এই নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ উঠছিল। এদিন সকাল ৯টা নাগাদ পুরসভার দল পৌঁছে ভাঙার কাজ শুরু করে।
এই অভিযানে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন নেতার নামও উঠে এসেছে। রাজু নস্কর নামে এক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তাঁর নির্মীয়মাণ বাড়িতে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছিল না। বেলেঘাটার ইস্ট কুরিয়া রোডে থাকা সেই ভবনটিতে কয়েকদিন আগেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কাগজপত্র জমা দিতে বলা হলেও কোনও উত্তর না পাওয়ায় রবিবার সেখানে বুলডোজার চালানো হয়। প্রথমে শ্রমিকরা হাতুড়ি ও গাঁইতি দিয়ে অংশবিশেষ ভাঙেন, পরে পুরো কাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে কসবার বোসপুকুর এলাকাতেও অভিযান চালানো হয়। ইডির হাতে গ্রেফতার সোনা পাপ্পুর পাঁচতলা বাড়িকে বেআইনি ঘোষণা করে ভাঙা শুরু হয়। পুরসভার শুনানিতে হাজির না হওয়াতেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, নিয়ম ভেঙে কীভাবে এত বড় ভবন তৈরি হল, তা খতিয়ে দেখা হবে। যারা এই ধরনের কাজ করেছে বা মদত দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিধায়ক জাভেদ আখতার খান দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সঠিক নয়। তাঁর কথায়, সংশ্লিষ্ট বাড়ির সমস্ত অনুমোদিত নথি ও প্ল্যান রয়েছে এবং সেগুলি খুব শীঘ্রই পুরসভার হাতে তুলে দেওয়া হবে।


