নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজ্যে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে স্বাস্থ্য মহলে। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক তরুণী নার্স বৃহস্পতিবার বিকেলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘ প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তার চিকিৎসা চলছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, জানুয়ারির শুরু থেকেই তিনি জ্বর, দুর্বলতা ও পেটের সমস্যায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রথমে তাকে কাটোয়া-র একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ-এ স্থানান্তরিত করা হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে শেষ পর্যন্ত তাকে কলকাতায় পাঠানো হয় এবং পরে বারাসতের ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রক্তের নমুনা পরীক্ষায় নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। কয়েক দিন ভেন্টিলেশনের সাহায্যে রাখা হলেও মাঝেমধ্যে তার শ্বাসপ্রশ্বাস কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন সংকটজনক অবস্থায় থাকার ফলে ফুসফুসে নতুন সংক্রমণ দেখা দেয়। চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি বলে জানা গিয়েছে।
একই হাসপাতালে কর্মরত আর এক পুরুষ নার্সও ওই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে সময়মতো চিকিৎসায় তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। আক্রান্ত দু’জনের সংস্পর্শে আসা ৮২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, তাদের কারও শরীরে সংক্রমণ মেলেনি।
উৎস সন্ধানে রাজ্যের বন দপ্তর ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি যৌথভাবে শহর ও আশপাশের এলাকা থেকে কয়েকটি বাদুড় ধরে পরীক্ষা চালায়। অধিকাংশের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি, যদিও একটি বাদুড়ে পুরনো সংক্রমণের ইঙ্গিত মিলেছে। এই ঘটনার পর হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, জ্বর বা অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই নিরাপদ।


