সংবিধানের মর্যাদা ও সুশাসনের পক্ষে কাজ করা অবসরপ্রাপ্ত শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদের সংগঠন কনস্টিটিউশনাল কনডাক্ট গ্রুপ (সিসিজি) অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা-র সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে। সংগঠনের দাবি, তাঁর বক্তব্যে বিশেষ করে বাংলা ভাষায় কথা বলা মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করা হয়েছে, যা দেশের সংবিধানের মূল চেতনার বিরুদ্ধে যায়। সিসিজি-র সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন আইএএস, আইপিএস ও আইএফএস অফিসাররা। তাঁরা জানান, কোনও রাজনৈতিক পক্ষের হয়ে নয়, শুধুমাত্র সংবিধানের আদর্শ রক্ষা করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, নির্বাচনের সময় তীব্র ভাষা ব্যবহার নতুন বিষয় নয়, তবে একজন মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন মন্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার সময় সকল নাগরিকের প্রতি সমান আচরণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য সংবিধানের ১৪ ও ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের ভাবনার সঙ্গে মিলছে না। এই অনুচ্ছেদগুলোতে ধর্ম, জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে বৈষম্য না করার কথা স্পষ্টভাবে বলা আছে। সংগঠনের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী নাকি বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমদের ‘মিয়া’ বলে সম্বোধন করে তাঁদের বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এতে সমাজে বিভাজন ও অস্থিরতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সিসিজি। তাঁদের মতে, কোনও একটি সম্প্রদায়কে বারবার সন্দেহের চোখে দেখালে সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে।
এই বিষয়ে সিসিজি সুপ্রিম কোর্ট-এর হস্তক্ষেপ চেয়েছিল। তবে শীর্ষ আদালত সরাসরি পদক্ষেপ না নিয়ে আবেদনকারীদের গৌহাটি হাই কোর্ট-এ যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি, সংগঠনটি রাষ্ট্রপতির কাছেও আবেদন জানিয়েছে যাতে তিনি সাংবিধানিক শপথ পালনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। প্রাক্তন বিদেশ সচিব শিবশঙ্কর মেনন, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রসচিব জি কে পিল্লাই এবং প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট গভর্নর নাজিব জং-সহ বহু অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই বিবৃতিতে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, সংবিধান ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষাই এই উদ্যোগের একমাত্র লক্ষ্য।


