তিনবারের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী গিয়াসউদ্দিন মোল্লা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মগরাহাট (পশ্চিম) বিধানসভা কেন্দ্রের একটি স্থানীয় থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এক পুলিশ আধিকারিক মিতুন কুমার দে-র বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। একটি সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থা সূত্রে এই খবর পাওয়া গেছে।
সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার (১৭ মে) গিয়াসউদ্দিন মোল্লা নিজেই অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাঁর দাবি, এতদিন পুলিশি পদক্ষেপ ও নিজের দলের কর্মীদের হাতে নির্যাতনের আশঙ্কায় তিনি নীরব ছিলেন।
গিয়াসউদ্দিন মোল্লা পূর্বে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনি মগরাহাট (পশ্চিম) কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন।
ওই সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘদিন আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। নিজের দলের কর্মীদের হাতেই আক্রান্ত হওয়ার ভয় ছিল। তবে এখন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের ওপর আস্থা রেখেই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছি।”
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস গিয়াসউদ্দিন মোল্লাকে পুনরায় প্রার্থী করেনি। তাঁর পরিবর্তে শামিম আহমেদ মোল্লাকে প্রার্থী করা হয়, যিনি বর্তমানে বিধানসভায় দলের বিধায়কদের একজন।
প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের অভিযোগ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার মহকুমার তৎকালীন এসডিপিও মিতুন কুমার দে স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অকারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেন। তাঁর দাবি, ওই নেতা-কর্মীরা দলের অভ্যন্তরে কিছু নেতৃত্বের কার্যপদ্ধতির বিরোধিতা করেছিলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এক তৃণমূল কর্মীকে থানার ভিতরে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছিল এবং দলীয় কর্মীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়। তৎকালীন বিধায়ক হিসেবে প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাঁকেও অপমান করা হয় এবং লাঠি নিয়ে তেড়ে আসা হয় বলে দাবি তাঁর।
তাঁর দাবি, ঘটনাগুলি সম্পর্কে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অবগত ছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিক তাঁর নির্দেশেই কাজ করেছিলেন। ভারতের নির্বাচন কমিশন পূর্বে মিতুন কুমার দে-কে নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও বিরত রেখেছিল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


