মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল ইসরায়েল–লেবানন সীমান্তে। লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী Hezbollah শুক্রবার দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ লেবানন ও সীমান্তবর্তী এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর মোট ৩৩টি হামলা চালানো হয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক অভিযান ও বেসামরিক এলাকায় হামলার জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।
হিজবুল্লাহর প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রাশাফ, কুজাহ ও হাদাসা অঞ্চলে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনা ও সামরিক যানবাহনের সমাবেশ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। রাশাফ এলাকায় আক্রমণকারী ড্রোন, রকেটের ধারাবাহিক বর্ষণ এবং কামানের গোলাবর্ষণের মাধ্যমে সামরিক বুলডোজার ও সেনা সমাবেশকে নিশানা করা হয়েছিল বলে দাবি সংগঠনটির।
এছাড়াও লিমান ও কিরিয়াত শমোনা ব্যারাক লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। কুজাহ ও হাদাসায় অবস্থিত ইসরায়েলি অবস্থানের ওপর একাধিক দফায় রকেট ও কামানের গোলাবর্ষণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, তাদের বেশ কয়েকটি অভিযানে লক্ষ্যবস্তুতে “নিশ্চিত আঘাত” হানা সম্ভব হয়েছে।
পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটায় ইসরায়েলের সেনাবাহিনী Israel Defense Forces (IDF) দেশের উত্তরাঞ্চলের রোশ হানিকরা ও আচজিভ এলাকাকে ‘বন্ধ সামরিক এলাকা’ ঘোষণা করেছে। সীমান্ত পেরিয়ে ড্রোন অনুপ্রবেশ ও রকেট হামলার পর একাধিকবার বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত ফাইবার-অপটিক নিয়ন্ত্রিত ড্রোন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। প্রচলিত ড্রোনের তুলনায় এই প্রযুক্তির ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিহত করা অনেক বেশি কঠিন হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে প্রতিরক্ষা মহলে।
গত এপ্রিলের শেষদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন, হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বর্তমানে ইসরায়েলের জন্য “দুটি প্রধান হুমকি” হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি সেনাবাহিনীকে দ্রুত কার্যকর পাল্টা কৌশল তৈরির নির্দেশও দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতির ভঙ্গুরতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলতে থাকায় সীমান্ত অঞ্চল ক্রমশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।


