ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদের সভাপতি ইয়েল ব্রন-পিভে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন কয়েকজন হিজাব পড়া তরুণী দর্শনার্থীকে নিয়ে মন্তব্য করার কারণে। বিরোধী দলগুলি তার মন্তব্যকে ইসলামবিদ্বেষী ও বৈষম্যমূলক বলে আখ্যা দিয়েছে এবং তার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে।
এই ঘটনার সূত্রপাত হয়, যখন ফ্রন্টিয়ার্স মিডিয়ার সম্পাদক ডেভিড আলাইম সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ সংসদ ভবনের গ্যালারিতে বসা কয়েকজন হিজাব পরা তরুণীর ছবি শেয়ার করেন। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, “সংসদের অধিবেশনকক্ষে পাঁচজন হিজাব পরা নারী উপস্থিত আছেন।”
এই পোস্টের পরই ইয়েল ব্রন-পিভে তার নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেন, “যে অধিবেশনকক্ষে ২০০৪ সালে স্কুলে ধর্মীয় প্রতীক নিষিদ্ধের আইন পাস হয়েছিল, সেখানে এমন প্রকাশ্য ধর্মীয় চিহ্ন দেখা আমার কাছে অগ্রহণযোগ্য। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
এই মন্তব্যের পর বিরোধী এমপিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বামপন্থী দল এলএফআই-এর এমপি আয়মেরিক ক্যারোঁ বলেন, “জাতীয় পরিষদের সভাপতির মন্তব্য ইসলামবিদ্বেষী এবং নাগরিক অধিকারের প্রতি অসম্মানজনক।” একই দলের সদস্য টমাস পোর্টেস বলেন, “তিনি এমন এক ঘৃণামূলক প্রচারণাকে সমর্থন করেছেন, যা প্রতিদিন মুসলমানদের লক্ষ্য করে।” অন্যদিকে এমপি আন্তোয়ান লেয়োমোঁ বলেন, “সংসদ ভবনে হিজাব পরার কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করা উচিত।”
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে ফ্রান্সে স্কুলে প্রকাশ্য ধর্মীয় প্রতীক যেমন হিজাব, ক্রশ বা ইহুদি টুপি পরা নিষিদ্ধ করা হয়, তবে সংসদ ভবনে এই আইন প্রযোজ্য নয়। এই ঘটনার পর আবারও ফ্রান্সে ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণা ও মুসলমানদের অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, ফরাসি রাজনীতিতে ইসলামবিদ্বেষী মনোভাব ক্রমেই বেড়ে চলেছে, যা দেশের বহুত্ববাদী সমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয়।


