গাজা উপত্যকায় এক বছরের একটি শিশুকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। ফিলিস্তিনি টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্য গাজার আল-মাগাজি শরণার্থী শিবিরের কাছে এক শিশুকে আটক করে নির্যাতন চালায় ইজরায়েলি সেনারা। জানা গিয়েছে, ওই শিশুর নাম করিম। দাবি করা হয়েছে, তার বাবার কাছ থেকে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্যই এই নির্মম অত্যাচার করা হয়।
স্থানীয় সাংবাদিক ওসামা আল-কাহলৌতের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে যখন শিশুটির বাবা ওসামা আবু নাসর তাকে নিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে বেরিয়েছিলেন। সেই সময় তাদের বাড়ির কাছাকাছি গুলির শব্দে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, সেই পরিস্থিতির মধ্যেই ইজরায়েলি সেনারা তাদের আটক করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইসরাইলি সেনারা বলপূর্বক বাবাকে ও শিশুটিকে একটি চেকপোস্টের দিকে যেতে বাধ্য করে। সেখানে তাকে পোশাক খুলে জেরা করা হয়। একই সময়ে শিশুটির ওপর অত্যাচার চালানো হয় বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, বাবার সামনেই শিশুটিকে সিগারেট দিয়ে পোড়ানো হয়, শরীরে সূচ ফোটানো হয় এবং পায়ে পেরেক ঢোকানো হয়। একটি মেডিক্যাল রিপোর্টেও এই আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শিশুটির শরীরে সিগারেটের দাগ এবং পায়ে গভীর ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে।
প্রায় ১০ ঘণ্টা পর শিশুটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির মাধ্যমে তাকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে শিশুটির বাবা এখনও ইজরায়েলের হেফাজতেই রয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, যেন দ্রুত বাবাকে মুক্ত করা হয় এবং তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
এরই মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। গত বছরের অক্টোবর থেকে বহুবার এই ধরনের লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রের মতে, এই সময়কালে শত শত মানুষ নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে গাজায় বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলা ও শিশুরা প্রাণ হারিয়েছেন। লক্ষাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং গোটা এলাকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অসংখ্য মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।


