গাজা উপত্যকায় গত মার্চ মাস থেকে ইসরাইলি হামলার তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার পর থেকে ৭৩৭,০০০’রও বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই বিশাল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষ গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৫ শতাংশ। এই পরিস্থিতি এই অঞ্চলে এক গভীর মানবিক সংকটের চিত্র তুলে ধরে। গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রসংঘের এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। সেখানে হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাফেয়ার্স অফিসের মুখপাত্র স্টেফানি ট্রেমরে বলেন, শুধুমাত্র ৮ থেকে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যেই ১১,৫০০’র বেশি মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ২১ মাসে গাজার প্রায় প্রত্যেকেই একাধিকবার তাদের বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
ইসরাইলি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে সেই জায়গাগুলোও, যেখানে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা আশ্রয় নিয়েছিলেন। এর ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। মানবিক সহায়তার পথও সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে, যা গাজার বাসিন্দাদের জন্য জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তবে একটি সামান্য আশার আলো হিসেবে, ১৩৫ দিনেরও বেশি সময় পর গাজায় বেনজিন জ্বালানির সরবরাহ আবার শুরু হয়েছে। এই জ্বালানি জরুরি পরিষেবা, যেমন অ্যাম্বুলেন্স চালানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্টেফানি ট্রেমরে এটিকে একটি ছোট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যদিও তিনি স্বীকার করেন যে এটি এখনও পর্যাপ্ত নয়।
এদিকে, গাজায় একটি গির্জায় ইসরাইলি হামলার ঘটনায় রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যে গির্জাগুলো প্রার্থনার স্থান এবং আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে কাজ করার কথা, সেগুলোতে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আশ্রয়প্রার্থী মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত, তাদের ওপর হামলা নয়। এই ঘটনার পর তিনি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন, যা এই সংঘাতের মধ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, হেব্রনের ইব্রাহিমি মসজিদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ইসরাইল একটি ইহুদি বসতি পরিষদের হাতে তুলে দেওয়ার খবর এসেছে। তবে রাষ্ট্রসংঘের মুখপাত্র স্টেফানি ট্রেমরে জানিয়েছেন, এই তথ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রসংঘ সব ধর্মীয় স্থানের সুরক্ষার জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছে।
গাজার এই চলমান সংকট শুধু বাস্তুচ্যুতির সংখ্যাই নয়, বরং মানুষের জীবনযাত্রার ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন এই অঞ্চলের দিকে, এবং সবাই শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি সমাধান খুঁজছে।


