আহমেদাবাদ: ‘সম্মান রক্ষার্থে হত্যা’র শিকার হয়ে পরিবারের হাতে শ্বাসরোধে নিহত ১৯ বছর বয়সী মেডিক্যাল ছাত্রী। পরিবারের অমতে প্রেমের শাস্তি স্বরূপ ১৯ বছরের তরুণীকে প্রথমে ৫০টি ঘুমের ওষুধ দিয়ে অচেতন করে খুন করে তারই বাবা। গুজরাটের বনসকাঁথা পুলিশের চার্জশিট দেখে দেশ জুড়ে আলোড়ন উঠেছে। দুজন রসায়নবিদের পরামর্শেই খুন করা হয়েছিল, এমনটাই বলছে চার্জশিট।
আলপ্রাজোলাম ট্যাবলেট গুঁড়ো করে মৃত চন্দ্রিকা চৌধুরীর জন্য রাখা এক গ্লাস দুধের সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর তাকে হত্যা করা হয়,। অভিযোগ তার সম্পর্ক নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল পরিবার।
চার্জশিটে আরও বলা হয়েছে যে তার বাবা ও কাকা তাদের সম্প্রদায়ের দুজন রসায়নবিদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার পরই এই পরিকল্পনা করা হয়। ওই রসায়নবিদরা নাকি তাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, এতো ঘুমের ওষুধ তাকে দ্রুত অচেতন করে দেবে। এই দুজন রসায়নবিদকে এখন মামলার সরকারি সাক্ষী করা হয়েছে।
চন্দ্রিকার বাবা সেন্ধ চৌধুরী এবং কাকা শিবরাম চৌধুরী— একটি স্থানীয় দোকান থেকে ঘুমের ওষুধের ১০টি পাতা কেনেন।
চন্দ্রিকা যাকে বিশ্বাস করত, সেই কাকা তাকে ওষুধ মেশানো দুধ পরিবেশন করেন। পুরো দুধ পান না করা পর্যন্ত তার পাশে বসে ছিলেন কাকা এরপরই একটি ওড়না দিয়ে তার শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। সন্দেহ এড়াতে তারপর আত্মহত্যার ঘটনা সাজানোর জন্য তাকে ঝুলিয়ে দেয় পরিবারের লোকজন।
নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, হরিশ চৌধুরী নামের এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি চন্দ্রিকার বাড়ির লোকজন। তারা চেয়েছিলেন তাদের সম্প্রদায়ের ‘বিনিময় প্রথা’ মেনে তাদের পছন্দের পাত্রকে বিয়ে করুক তাদের মেয়ে।
সে মে মাসে হরিশের সাথে পালিয়ে যান চন্দ্রিকা। একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন। , তার আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় পুলিশ ১২ জুন রাজস্থানে তাদের খুঁজে বের করে। হরিশেকে মদ খাওয়ার অভিযোগ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। চন্দ্রিকাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।
১৭ জুন, হরিশের কাছে চন্দ্রিকা ইনস্টাগ্রাম দিয়ে মেসেজ পাঠান: “আমাকে নিয়ে যাও। যদি না আসো, তাহলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।”
হরিশ গুজরাট হাইকোর্টে একটি ‘হেবিয়াস কর্পাস’ পিটিশন দায়ের করেন। কিন্তু আদালতে তার উপস্থিতির জন্য নির্ধারিত তারিখ, ২৭ জুনে, আদালতকে জানানো হয় যে চন্দ্রিকা ২৫ জুন স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন।
তবে তার বাবা ও কাকা তাদের সম্প্রদায়কে জানান যে সে আত্মহত্যা করেছে, এবং জনসমক্ষে লজ্জা এড়াতে তারা দ্রুত তার দাহকার্য সম্পন্ন করবেন। তাকে ২৫ জুন ভোরবেলা দাহ করা হয়েছিল।
চার্জশিটে বিএনএসএস-এর ধারা ১৮৩-এর অধীনে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে রেকর্ড করা তিনটি বয়ান এবং একটি পরিকল্পিত ‘সম্মান রক্ষার্থে হত্যা’র অভিযোগ সমর্থনকারী ১১৪ জন সাক্ষীর বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চার্জশিটটি ১,৭০০ পৃষ্ঠার।


