গুজরাটের বারোদা শহরে ঘুষকাণ্ড ঘিরে বড়সড় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একটি অভিযোগের তদন্তে গিয়ে আন্টি কর্পোরেশন ব্যুরো(এসিবি) এক ব্যক্তিকে ২ লক্ষ টাকা ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরে ফেলে। ঘটনাটি ঘিরে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, কারণ এই মামলার সঙ্গে তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’ অভিযোগকে চাপা দেওয়ার বিষয় জড়িত বলে জানা গিয়েছে।
এসিবি সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগকারীকে চাপ দিচ্ছিলেন টাকা দেওয়ার জন্য। অভিযোগকারী দাবি করেন, টাকা না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’-এর মামলা দায়ের করা হতে পারে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
পুরো ঘটনার সূত্রপাত ৯ এপ্রিল। সেদিন একটি বিবাদের জেরে অভিযোগকারী ও কয়েকজন সাক্ষীকে পদরা থানায় ডাকা হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ ইন্সপেক্টর, ভি.এ. চরণ, নাকি ইঙ্গিত দেন যে ‘লাভ জিহাদ’-এর মামলা করা হতে পারে। পাশাপাশি তিনি বলেন, টাকা দিলে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়া সম্ভব। এই কথার পর থেকেই অভিযোগকারী চাপে পড়ে যান।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সরাসরি নয়, একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে এই ঘুষের দাবি করা হয়। ওই মধ্যস্থতাকারীর নাম সাজিদালি গুলামরসুল সাইয়েদ। প্রথমে ৬ লক্ষ টাকা দাবি করা হলেও পরে দরদাম করে তা ২ লক্ষ টাকায় নামানো হয়। অভিযোগকারীকে বারবার ফোন করে টাকা জোগাড় করতে বলা হচ্ছিল বলেও জানা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে ভীত ও চাপে পড়ে অভিযোগকারী শেষ পর্যন্ত ঘুষ দিতে অস্বীকার করেন এবং এসিবির দ্বারস্থ হন। এরপরই এসিবি একটি ফাঁদ পাতে। ১৬ এপ্রিল ভাদোদরার অক্ষর চক এলাকায় রাজওয়াড়ি টি স্টলের কাছে এই ফাঁদ পাতা হয়।
সেদিন নির্ধারিত সময়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি টাকা নিতে আসেন। অভিযোগকারী তাঁর হাতে ২ লক্ষ টাকা তুলে দেন। টাকা নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এসিবির আধিকারিকরা তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। ঘটনাস্থল থেকেই পুরো টাকার অঙ্ক উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনেই অভিযুক্তকে আটক করা হয়, যা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।
তবে এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে যাঁর নাম উঠে এসেছে, সেই পুলিশ ইন্সপেক্টর ভি.এ. চরণ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক বলে জানা গেছে। তাঁর ভূমিকা নিয়ে এখন জোরদার তদন্ত শুরু হয়েছে।
এসিবি জানিয়েছে, এই পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে। যারা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘লাভ জিহাদ’-এর মতো সংবেদনশীল বিষয়কে সামনে রেখে এভাবে ঘুষ দাবি করার অভিযোগ সামনে আসায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, আইন রক্ষকদের একাংশ যদি এভাবে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবেন।


