বাংলায় নির্বাচনের আবহে নারী প্রতিনিধিত্ব ও সংরক্ষণ ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। সম্প্রতি সংসদে মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর এই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, তারা নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বিরোধীদের বক্তব্য, বাস্তবে সেই চিত্র মিলছে না। নির্বাচনী প্রচারে এসে নরেন্দ্র মোদি বারবার বলেছেন, তাঁর দল মহিলাদের আরও বেশি করে রাজনীতিতে এগিয়ে আসতে উৎসাহ দেয়। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিরোধী দলগুলি সংসদে এই বিষয়ে সহযোগিতা করেনি। কিন্তু ময়দানের হিসাব অন্য কথা বলছে বলে দাবি বিভিন্ন মহলের।
রাজ্যের আসন্ন ভোটকে সামনে রেখে প্রার্থীদের তালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন দলের মধ্যে মহিলা প্রার্থীর সংখ্যায় পার্থক্য রয়েছে। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সমীক্ষা অনুযায়ী, ১৫২টি আসনের মধ্যে একটি বড় জাতীয় দলের মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে কম। শতাংশের হিসেবে তা প্রায় ১০-এর কাছাকাছি। অন্যদিকে আঞ্চলিক ও বাম দলগুলিতে এই হার কিছুটা বেশি। অন্যান্য দলের প্রার্থী তালিকায় মহিলাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। একইভাবে বাম শিবির ও কংগ্রেসও তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক মহিলা প্রার্থী দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য এবং বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে ফারাক রয়েছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
বিরোধী শিবিরের নেত্রীরা সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন। তারা বলছেন, যদি সত্যিই মহিলাদের জন্য সংরক্ষণে আগ্রহ থাকে, তবে এতদিন তা কার্যকর করা হয়নি কেন। তাঁদের দাবি, আগে থেকেই এই আইনের পক্ষে বহু দল একসঙ্গে ছিল।
অন্যদিকে, রাজ্যের মহিলাদের জন্য বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প চালু থাকার কথাও উঠে এসেছে। সামাজিক সুরক্ষা ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে মহিলাদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি করেছে রাজ্য সরকার। এর ফলে ভোটের ময়দানে নারী ভোটারদের মন জয় করাই এখন সব দলের বড় লক্ষ্য। নারী প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে রাজনৈতিক বক্তব্য, পরিসংখ্যান এবং বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে একটি স্পষ্ট টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।


