উত্তরাখণ্ডের হারিদ্বারের মালবাহী চালক মুহাম্মদ ফিরোজ এক সময় স্বাভাবিক ভাবে রাজ্য সীমানা পার হয়ে যেতেন কাজে। কিন্তু সম্প্রতি এক হামলার পর এখন তার জীবন গ্রাস করেছে ভয়ে। নিজের শহরেই তিনি নিরাপত্তা নিয়ে সন্দিহান।
জানা গিয়েছে, ফিরোজ ২২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১:৩০ নাগাদ গাড়ি পার্ক করার পর অফিস চেক করে বাইরে বের হওয়া মাত্রই দুই ব্যক্তি অফিসের পাশে প্রস্রাব করছিল। তিনি কিছু না বলেই শেখান থেকে চলে যাচ্ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই তারা ফিরোজকে থামিয়ে তার জামার কলার ধরে নাম জানতে চায়। নিজের নাম বলার পর পরিস্থিতি হিংস্র আকার নেয় বলে জানায় ফিরোজ।
দুইজন হামলাকারীর সঙ্গে আরও ১০–১২ জন যোগ হয়। তাদের হাতে ছিল লাঠি, বেল্ট ও অন্যান্য অস্ত্র। তারা ফিরোজকে নির্মমভাবে মারতে থাকে। কিছু হামলাকারী কালো স্কর্পিও গাড়িতে আসে এবং বারবার “অঙ্কুর ভাই” নামটি উল্লেখ করে।
ফিরোজ বছরে প্রায় ২৫,০০০ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে পরিবারে খরচ জোগান। এবার তিনি রাস্তায় যাতায়াত করতে ভয় পাচ্ছেন। তিনি বলেন, “নিজের শহরে যদি আমাকে এই ভাবে লক্ষ্য করা হয়, বাইরে শহরে কী হবে, তা কল্পনাও করা যায় না।”
সাম্প্রতিক চিকিৎসার পর তিনি এআইআইএমএস থেকে ছাড়া পেয়েছেন। স্থানীয়রা ফিরোজের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং দাবি করেছেন, হামলার মূল কারণ ধর্মীয় বৈষম্য। কিছু স্থানীয় জানিয়েছেন, হামলাকারীরা সম্ভবত মোরাদাবাদের বাইরে থেকে এসেছে। এতে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের ভীতি বাড়ছে।
অঙ্কুর চৌহান, যার নাম উল্লেখ করা হয়েছিল ,হামলার সঙ্গে তার কোনো সংযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। হারিদ্বার পুলিশ মামলা দায়ের করেছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, দৈনন্দিন জীবনে সংখ্যালঘু ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ এবং অসহিষ্ণুতার মাত্রা বেড়েছে।


