হাওড়ার বাগনান থানার পশ্চিম বাইনা এলাকায় অবস্থিত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসা কাশেমূল উলুম তাদের পথচলার পঞ্চাশ বছর পূর্ণ করল। এই উপলক্ষে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে দু’দিনব্যাপী অর্ধশতবর্ষ উদ্যাপন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রাক্তনী ও এলাকার মানুষদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়।
অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে জুম্মার নামাজকে ঘিরে বিশেষ ধর্মীয় আয়োজন করা হয়। জুম্মার আগে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন দারুল উলুম নাদওয়াতুল উলামার নাযিম ও অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সনাল ল’ বোর্ডের সম্পাদক মাওলানা সৈয়দ বিলাল আবদুল হাই হাসানী নাদভী। খুতবা পাঠ ও নামাজ পরিচালনা করেন সাহারানপুরের মাজাহিরুল উলুম দারে জাদীদ মাদ্রাসার প্রধান কারী সালাহউদ্দিন মাজাহিরী। এরপর মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র ও শিক্ষকদের নিয়ে পুনর্মিলনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পুরনো দিনের স্মৃতি তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন অতিথিরা।
এই অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশিষ্ট আলেম, শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রাজ্যের আমীরে শরীয় মাওলানা মনজুর আলম কাসেমী, রাজ্য জমিয়ত উলামা হিন্দের সম্পাদক কারী শামসুদ্দিন আহমাদ, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রধান ড. মশিউর রহমান, দারুল উলুম দেওবন্দের শাইখুল হাদিস মাওলানা মুনিরুদিন কাসেমী-সহ আরও অনেকে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৯৭৬ সালে মুফতি আনসার আলি সাহেব নিজস্ব জমিতে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সূচনা করেছিলেন। মদিনা থেকে ভারতে ফিরে এসে তিনি দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে নিজেকে নিয়োজিত করেন। ২০০৪ সালে তার ইন্তেকালের পর তার সুযোগ্য পুত্র মাওলানা ওহীদুদ্দীন মাহবুব মাদ্রাসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বেই এবছর সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজন সম্ভব হয়েছে।
উদ্যাপন উপলক্ষে মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে ‘মুফতি আনসার আলি স্মৃতি গ্রন্থাগার’, ফতওয়া বিভাগ এবং সমাজসেবা বিভাগের উদ্বোধন করা হয়। পাশাপাশি স্মারক বক্তৃতা সভায় বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও চিন্তাবিদরা। সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর ইসলামী সভায় মাদ্রাসার ছয়জন শিক্ষার্থীকে পাগড়ি প্রদান করা হয়। পুরো অনুষ্ঠান ঘিরে এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়।


