নাম না করে হুমায়ুন কবীরে ভাইরাল ভিডিও ইস্যু নিয়ে এবার সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার জঙ্গিপুরের জনসভা থেকে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়ো ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ তুলে কার্যত তৃণমূলকে নিশানা করেছেন তিনি।
সম্প্রতি হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে একটি ভিডিও প্রকাশ করে তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে বিজেপির সঙ্গে হাজার কোটি টাকার গোপন সমঝোতা হয়েছে। ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগের জেরে রাজনৈতিকভাবে চাপে পড়ে হুমায়ুন কবীরের নবগঠিত দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি। জোটসঙ্গী অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম) ইতিমধ্যেই তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। পাশাপাশি দলের একাধিক নেতা ও কর্মীও ইস্তফা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
তবে শুরু থেকেই ভিডিওটিকে এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ভুয়ো বলে দাবি করে আসছেন হুমায়ুন কবীর। সেই বিতর্কের মাঝেই জঙ্গিপুরের সভায় মোদি সরাসরি নাম না করলেও বলেন, ভোট যত এগোচ্ছে ততই পরাজয়ের আশঙ্কায় ভুয়ো ভিডিও তৈরি করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। তিনি দাবি করেন, দেশের অন্যান্য রাজ্যেও একই ধরনের কৌশল নেওয়া হয়েছে এবং ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এদিকে ভিডিও প্রকাশের পর বিজেপিকে আক্রমণ শানায় তৃণমূল। তাদের অভিযোগ ছিল, বিতর্কে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যদিও শুক্রবার কলকাতায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট জানান, বাবরি মসজিদ নির্মাণের পক্ষে থাকা কোনও রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে বিজেপির আদর্শগত মিল হতে পারে না।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নাম উল্লেখ না করলেও জঙ্গিপুরের মঞ্চ থেকে মোদির মন্তব্য আসলে হুমায়ুন ভিডিও বিতর্ককে কেন্দ্র করেই শাসকদলকে পাল্টা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা। ভোটের আগে এআই ভিডিও বিতর্ক, জোট ভাঙন এবং পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক আক্রমণে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বাংলার নির্বাচনী রাজনীতি।


