পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা উত্তেজনার জেরে ভারতের জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া থেকে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার একটি প্রস্তাব এলেও, তা আপাতত গ্রহণ করেনি ভারত। বিষয়টি নিয়ে সরাসরি অবগত দু’জন সূত্র এমনটাই জানিয়েছেন। ফলে রাশিয়া থেকে আসা একটি গ্যাসবাহী জাহাজ এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে আছে।জানা গিয়েছে, আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একটি প্রকল্প থেকে গ্যাস সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছিল রাশিয়া। কিন্তু সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি ভারত। কারণ, এই ধরনের জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিয়ম ভঙ্গের ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে এলএনজি পরিবহনের ক্ষেত্রে নজরদারি অনেক বেশি, ফলে বিষয়টি গোপন রাখা প্রায় অসম্ভব।সূত্রের খবর, এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে একটি বড় গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কার ভারতের দিকে রওনা হয়েছিল। সেই জাহাজটি গুজরাটের দাহেজ টার্মিনালে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেটি সিঙ্গাপুরের কাছাকাছি জলসীমায় ঘুরপাক খাচ্ছে এবং তার নির্দিষ্ট গন্তব্য এখন আর জানানো হচ্ছে না। কাগজপত্রে গ্যাসের উৎস অন্য দেশের বলে উল্লেখ থাকলেও, ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সেটির আসল উৎস ধরা পড়ে যায়। একদিকে দেশের জ্বালানির চাহিদা মেটানো জরুরি, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা মেনে চলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিশোধিত তেল কেনার ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তা থাকলেও, এলএনজি কেনাবেচায় সেই সুযোগ অনেক কম। এপ্রিলের শেষ দিকে রাশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রকের এক শীর্ষ কর্তা ভারতে এসে বৈঠক করেন। সেই সময় ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা গ্যাস তারা কিনতে রাজি নয়। যদিও আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। জুন মাসে আবারও বৈঠক হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।অন্যদিকে, রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা এখনও চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। কারণ, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে, যাতে দেশগুলো জ্বালানি সঙ্কট সামাল দিতে পারে। তবে গ্যাসের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা প্রযোজ্য নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রপথে তেল পরিবহনের সময় জাহাজ বদল বা অন্যান্য কৌশলের মাধ্যমে উৎস গোপন করা সম্ভব হলেও, এলএনজি-র ক্ষেত্রে তা প্রায় অসম্ভব। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সহজেই নজর রাখা যায়।বর্তমানে ভারত বৈধ ও অনুমোদিত উৎস থেকে গ্যাস কেনার পথেই এগোতে চাইছে। কিন্তু সেই সরবরাহের বড় অংশ ইতিমধ্যেই ইউরোপের জন্য নির্ধারিত। ফলে বিকল্প উৎস খুঁজতে হচ্ছে ভারতকে। অন্যদিকে, চীন এখনও রাশিয়া থেকে গ্যাস কিনছে, তা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকুক বা না থাকুক। এই পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি সাশ্রয়ের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো, কম জ্বালানি ব্যবহার করা এবং বিদেশ ভ্রমণ সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
জ্বালানি সংকটের মধ্যেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মানছে ভারত, রাশিয়ার LNG প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল নয়া দিল্লি
Popular Categories


