ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল আবারও বিশ্ব মঞ্চে সাফল্য দেখাল। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচে ইংল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ ক্রিকেট দল বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয়। এই জয়ের মাধ্যমে ভারত ষষ্ঠবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হলো। ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে তারা তোলে ৪১১ রান। ভারতের এই রান চেজ করতে কার্যত চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ডের ব্যাটারা। ইংল্যান্ড ৩১১ রানে অলআউট হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১০০ রানের বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ভারতের যুব দল। ভারতের বিধ্বংসী ইনিংস:ম্যাচের শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের ওপর চাপ তৈরি করে ভারতের ব্যাটসম্যানরা। বিশেষ করে ১৪ বছর বয়সী ওপেনার বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটিং সবাইকে চমকে দেয়। তিনি মাত্র ৮০ বল খেলে ১৭৫ রান করেন। তার দাপুটে ব্যাটিংয়ের ফলে ভারত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে তোলে ৪১১ রান, যা যুব বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্কোর। বৈভবের ইনিংস ছিল একেবারেই ব্যতিক্রমী। মাত্র ৫৫ বলে শত রান পূর্ণ করে, ভারতের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দ্রুততম সেঞ্চুরির কৃতিত্ব অর্জন করেন। তার ব্যাট থেকে আসে ১৫টি চার ও ৫টি ছয়। পুরো টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার রেকর্ডও এখন তার দখলে। আগের রেকর্ডগুলো ভেঙে তিনি নতুন রেকর্ড স্থাপন করেন।এছাড়া দলের অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ৫৩ রান করেন। অভিজ্ঞান কুণ্ডু ৪০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। বেদান্ত ত্রিবেদী ও বিহান মলহোত্রাও প্রয়োজনীয় অবদান রাখেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে জেমস মিন্টো তিনটি উইকেট নেন। তবুও ভারতের বিশাল রান থামানো সম্ভব হয়নি।ইংল্যান্ডের ইনিংস:৪১২ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। পঞ্চম ওভারের মধ্যেই ১৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় দলটি। আরএস অম্বরীশের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান ওপেনার জোসেফ মরিস, যিনি ১৭ রান করেছিলেন। এতে ইংল্যান্ডের শিবিরে দ্রুত চাপ তৈরি হয়।তবে এরপর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন আরেক ওপেনার বেন ডাওকিনস ও তিন নম্বরে নামা বেন মায়েস। দু’জনেই ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছিলেন এবং ভালো জুটি গড়ে তোলেন। তাঁদের ব্যাটে কিছুটা স্বস্তি পায় ইংল্যান্ড। কিন্তু এই জুটি বেশি দূর এগোতে পারেনি। খিলান প্যাটেলের বলেই ভাঙে এই গুরুত্বপূর্ণ জুটি। দলের রান তখন ৯৩। বেন মায়েস ২৮ বলে ৪৭ রান করে আউট হন। কিছুক্ষণ পর ডাওকিনসও ফিরে যান, তিনি করেন ৫৬ বলে ৬৬ রান।এরপর অধিনায়ক থমাস রিও ঝোড়ো ব্যাটিং করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেন। মাত্র ১৮ বলে ৩১ রান করেন তিনি। কিন্তু তাঁর বিদায়ের পরই বিপর্যয় নেমে আসে ইংল্যান্ডের ইনিংসে। অল্প সময়ের মধ্যেই একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে। ১৭৪ রানে চার উইকেট থেকে মুহূর্তের মধ্যে স্কোর দাঁড়ায় ১৭৭ রানে সাত উইকেট।এই কঠিন সময়ে একাই লড়াই চালিয়ে যান কেলেব ফ্যালকনার। পাঁচ নম্বরে নেমে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন তিনি। চারদিক থেকে উইকেট পড়লেও নিজের খেলা ধরে রাখেন ফ্যালকনার। জেমস মিন্টো কিছুটা সময় তাঁকে সঙ্গ দেন। নয়ে নেমে মিন্টো ২৮ রান করেন। তবে তাঁর আউটের পর আর কেউ টিকতে পারেননি।শেষ পর্যন্ত ফ্যালকনার ৬৭ বলে ১১৫ রান করে আউট হলে ইংল্যান্ডের সব আশা শেষ হয়ে যায়। তাঁর ইনিংসে ছিল ৭টি ছয় ও ৯টি চার। ইংল্যান্ড ৪০.২ ওভারে ৩১১ রানে অলআউট হয়ে যায় এবং ১০০ রানে ম্যাচ হারে।ভারতের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন আরএস অম্বরীশ, যিনি নেন ৩টি উইকেট। দীপেন দেবেন্দ্রন ও কনিষ্ক চৌহান পান ২টি করে উইকেট। একটি করে উইকেট নেন খিলান প্যাটেল ও আয়ুষ মাত্রে।
Popular Categories


