পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির মাঝেও ভারতের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছে ইরান। ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতালি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচলে কোনও বাধা নেই এবং এই পথে যাতায়াতের জন্য কোনও অতিরিক্ত অর্থও নেওয়া হচ্ছে না।
সোমবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত এই সমুদ্রপথ ব্যবহার করে যেসব ভারতীয় তেলবাহী জাহাজ যাতায়াত করেছে, তাদের কাছ থেকে ইরান কোনও রকম ফি আদায় করেনি। তার কথায়, বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ থাকলে ভারত সরকারের কাছ থেকেও তা যাচাই করা যেতে পারে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানকে টোল প্রদান করলে সেই জাহাজগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করে জানানো হয়েছে, ভারতের ক্ষেত্রে এমন কোনও জটিলতা তৈরি হবে না এবং ভারতীয় জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতেও ভারত ও ইরানের সম্পর্ক দৃঢ় রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতার ভিত্তি মজবুত বলেই তিনি উল্লেখ করেন। শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, সংস্কৃতির দিক থেকেও এই সম্পর্ক অনেক পুরনো এবং গভীর।
তিনি আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতেও ভারতীয় জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে। পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দেন, খুব শিগগিরই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত নতুন কিছু নীতি ঘোষণা করতে পারে ইরান, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, ভারতের তরফেও একই সুর শোনা গেছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সম্প্রতি জানান, ইরানের সঙ্গে ভারতীয় জাহাজের ওপর কোনও ধরনের চার্জ আরোপ নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। অর্থাৎ, এই পথ ব্যবহার করতে গিয়ে অতিরিক্ত কোনও খরচের প্রশ্নই উঠছে না।
সরকারি সূত্রে আরও জানা যায়, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরুর পর মন্ত্রিসভার বৈঠকে জানানো হয়েছে, এই রুট দিয়ে এলপিজি বহনকারী ভারতীয় জাহাজগুলিকেও কোনও অর্থ দিতে হয়নি। যদিও পরিস্থিতির কারণে কিছু ভারতীয় জাহাজ পারস্য উপসাগর এলাকায় আটকে রয়েছে বলেও খবর মিলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী ভারতের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মোট অপরিশোধিত তেল ও এলপিজির বড় অংশ এই পথেই আসে। তাই এই রুট খোলা থাকা এবং নিরাপদ থাকা ভারতের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি।


