মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করে ড্র আদায় করেছিল ইরান। কিন্তু ম্যাচ শেষের পরই নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়ল তারা। অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলসে ম্যাচ খেলার পর দলকে সেখানে রাত কাটানোর সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি মেক্সিকোর তিহুয়ানায় ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই।
বিশ্বকাপের গ্রুপ জি-র প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২-২ গোলে ড্র করে ইরান। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে। উল্লেখযোগ্যভাবে, আগামী রবিবার বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ইরানের পরবর্তী ম্যাচও একই মাঠে হওয়ার কথা। তা সত্ত্বেও দলকে লস অ্যাঞ্জেলসে থাকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
ইরানের পরিকল্পনা ছিল ম্যাচের পর লস অ্যাঞ্জেলসেই রাত কাটিয়ে খেলোয়াড়দের বিশ্রাম, চিকিৎসা ও পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়া। সেই অনুযায়ী পরদিন দুপুরে তিহুয়ানায় ফেরার সূচিও তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই সেই পরিকল্পনা বদলে যায়।
একজন দোভাষীর মাধ্যমে ঘালেনোই বলেন, “আমাদের পুনরুদ্ধারের সময়টুকুও দেওয়া হয়নি। ম্যাচের পর বলা হয়েছে, এখনই বেরিয়ে যেতে হবে। খেলোয়াড়দের বিশ্রামের জন্য এই সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের বিমানে তুলে তিহুয়ানায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে আমরা ভীষণ সমস্যায় পড়েছি।”
কোচের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের কারণ সম্পর্কেও দলকে কিছু জানানো হয়নি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সত্যি বলতে কেন আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা জানি না। বিষয়টি খুবই অদ্ভুত। মনে হচ্ছে, আমাদের হয়ে অন্য কেউ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “দুই দিন আগে এখানে আসার কথা ছিল। ম্যাচের পর আজ রাতে থাকার এবং আগামীকাল দুপুরে ফেরার পরিকল্পনা ছিল। হঠাৎ কেন সব বদলে গেল, তার কোনও ব্যাখ্যা নেই।” একই সঙ্গে তির্যক মন্তব্য করে ঘালেনোই বলেন, “আমার মনে হয়, এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বঞ্চিত দল সম্ভবত আমরাই।”
শুধু এই ঘটনা নয়, টুর্নামেন্ট শুরুর আগেও একাধিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির জেরে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ইরান তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানালেও তা খারিজ করে দেয় ফিফা। এছাড়া ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি, কোচিং স্টাফের কয়েকজন সদস্য এবং মিডিয়া প্রতিনিধিদের একাংশ ভিসা না পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারেননি।
দলের অধিনায়ক মেহদি তারেমিও পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। ম্যাচ শেষের প্রায় এক ঘণ্টা পরে তিনি বলেন, “এখনই লস অ্যাঞ্জেলস ছাড়তে হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য ভাল নয়। আমার মনে হয়, ফিফার আরও সাহায্য করা উচিত ছিল। সবকিছুই একটা বিপর্যয়ের মতো লাগছে।”
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই বার পিছিয়ে পড়েও সমতা ফিরিয়ে আনে ইরান। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের বাইরে এখন আলোচনার কেন্দ্রে তাদের যাতায়াত ও প্রস্তুতি ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক। একই স্টেডিয়ামে কয়েক দিনের ব্যবধানে পরবর্তী ম্যাচ থাকা সত্ত্বেও দলকে কেন রাতারাতি সীমান্ত পেরিয়ে মেক্সিকোয় ফিরে যেতে হল, সেই প্রশ্নই এখন ফুটবল মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।


