তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া তিন মুসলিম সাংসদকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠানের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই নানা জল্পনা চলছিল। বিশেষ করে বিজেপির সঙ্গে এনসিপিআইয়ের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করতে চলেছেন এনসিপিআইয়ের ওই তিন সাংসদ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই সাক্ষাৎ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর আগে এনডিএ-র বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না তাঁরা। পাশাপাশি তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, এনসিপিআইয়ের সাংসদ হলেও তাঁরা এনডিএ-র অংশ নন।
তবে তিন সাংসদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মূলত নিজেদের এলাকার সমস্যা, উন্নয়নমূলক কাজ এবং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন দাবি নিয়ে আলোচনা করা হবে। তাঁদের মতে, একজন নির্বাচিত সাংসদ হিসেবে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা স্বাভাবিক সাংসদীয় প্রক্রিয়ারই অংশ।
কিন্তু রাজনৈতিক মহলে এই সাক্ষাৎ ঘিরে আলাদা গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। কারণ এর আগে সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে ওই তিন সাংসদ জানিয়েছিলেন, তাঁরা এনসিপিআইয়ের সঙ্গে রয়েছেন, কিন্তু এনডিএ-র সঙ্গে যুক্ত নন। এমনকি বিজেপির পাশে বসা নিয়েও আপত্তির কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন তাঁরা। তাঁদের এই অবস্থান বিজেপির জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এরপর বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হয়। সেই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য পর্যবেক্ষক তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। এই বৈঠক নিয়েও রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল।
এদিকে, এনসিপিআইয়ের সাংসদদের বিভিন্ন এলাকার দাবি-দাওয়া নিয়ে একটি নথি জমা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ওই নথিতে দলের ২০ জন সাংসদের এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
এখন অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে কী আলোচনা হয়, সেটাই নজরের বিষয়। বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে তিন সাংসদের অবস্থান নিয়ে কোনও আলোচনা হয় কি না, কিংবা কেন্দ্রের তরফে কোনও আশ্বাস দেওয়া হয় কি না, তা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তাঁদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।


